দেড় দশক আগে তৎকালীন বিডিআরের সদর দপ্তর পিলখানায় সংঘটিত হয়েছিল নারকীয় হত্যাযজ্ঞ। ঐ দিন ব্রাশফায়ার করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় বিডিআরের মহাপরিচালকসহ ৫৭ সেনা কর্মকর্তাকে। নৃশংস ঐ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলার বিচারের দুইটি ধাপ সম্পন্ন হলেও তৃতীয় ধাপের বিচার এখনো শুরু হয়নি।
এ প্রসঙ্গে আসামি পক্ষের কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট এম আমিনুল ইসলাম বলেন, যে কোনো পর্যায়ে মামলার পুনঃতদন্ত করার সুযোগ রয়েছে। আমরা আসামিপক্ষ বিভিন্ন সময়ে বলে আসছি যে, এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত হয়নি। ভিকটিমের স্বজনরা সংবাদ সম্মেলন করে যে দাবি করেছেন তার মধ্য দিয়ে আমাদের দাবির সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আসামিরা মামলাটি পুনঃতদন্তের জন্য হয়ত আদালতে আবেদন করতে পারেন।
অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক বলেন, আমরা সবেমাত্র দায়িত্ব নিয়েছি। আপিল শুনানির বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে আলোচনা করে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এর আগে কোনো কিছুই বলা সম্ভব নয়।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় থেকে বলা হয়েছিল যে, ওই সময়ে আপিল বিভাগে পর্যাপ্তসংখ্যক বিচারক নেই। বিচারক নিয়োগের পর বিশেষ বেঞ্চ গঠন করে দেওয়া হলে তখন এই হত্যা মামলার আপিল শুনানি সম্ভব হবে।
২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি বিদ্রোহের নামে পিলখানায় সেনাকর্মকর্তাদের মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থান ক্ষতবিক্ষত করা হয় বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে। লাশ বিকৃতের পর নিহতদের ইউনিফর্মসহ ব্যাচ খুলে ফেলা হয়, যাতে ভবিষ্যতে সেনা কর্মকর্তাদের মৃতদেহ শনাক্ত করা না যায়। সুরতহাল রিপোর্ট ও ময়নাতদন্ত রিপোর্টে বিডিআর জওয়ানদের এমন নৃশংসতার চিত্র ফুটে ওঠে, যা স্থান পেয়েছে উচ্চ আদালতের রায়ের পাতায় পাতায়।
আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হতে কেন বিলম্ব : হত্যা মামলার বিচার ২০১৩ সালে শেষ করে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ। নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৫২ বিডিআর জওয়ানের ডেথ রেফারেন্স ও যাবজ্জীবনসহ বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ডিত আসামিদের আপিল ২০১৭ সালে নিষ্পত্তি করে হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চ। ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে ২৯ হাজার পৃষ্ঠার আপিলের রায় প্রকাশ করে হাইকোর্ট।
রায়ে বলা হয়, পিলখানায় তৎকালীন বিডিআরের কিছু সদস্য আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ৫৭ সেনাকর্মকর্তাকে হত্যা করে। এই কলঙ্কচিহ্ন তাদের অনেক দিন বয়ে বেড়াতে হবে। হাইকোর্টের নকল শাখা থেকে বড় ভলিউমের এই রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি সংগ্রহ এবং রায় পর্যালোচনা করে আপিল দায়ের করতে অনেকটা সময় নেয় আসামি পক্ষ। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন ফাঁসির ১৩৯ আসামিসহ দণ্ডিতরা। এছাড়া বেশ কিছু আসামির সাজা অপর্যাপ্ত হওয়ায় তাদের ফাঁসি চেয়ে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। রাষ্ট্র ও আসামি পক্ষ থেকে আপিলের সারসংক্ষেপ দাখিলের পর গত বছরের অক্টোবর মাসে আপিল শুনানির জন্য প্রস্তুত হয়। তবে বিচারক-সংকটের কারণে তখন আপিল শুনানি গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।
