ঢাকাই সিনেমার জীবন্ত কিংবদন্তি অভিনেতা প্রবীর মিত্র ৮০ বছর পূর্ণ করে ৮১-তে পা রাখলেন আজ। ১৯৪৩ সালের ১৮ আগস্ট তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন চাঁদপুরের নতুন বাজারে। তার পুরো নাম প্রবীর কুমার মিত্র। পৈতৃক নিবাস কেরানীগঞ্জের শাক্তায়। পুরান ঢাকায় বড় হওয়া প্রবীর মিত্র স্কুলজীবন থেকেই নাট্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত হন। স্কুলজীবনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ডাকঘর’ নাটকে অভিনয় করেছিলেন তিনি। ১৯৬৯ সালে প্রয়াত এইচ আকবরের ‘জলছবি’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য প্রথম প্রবীর মিত্র ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান। এই চলচ্চিত্রে চিত্রনাট্য ও সংলাপকার হিসেবে অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামানের আত্মপ্রকাশ ঘটে। যদিও চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায় ১৯৭১ সালের ১ জানুয়ারি। পরবর্তীতে পরিচালক এইচ আকবরের হাত ধরে ‘জলছবি’ নামে একটি চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়েছে বড়পর্দায় তার অভিষেক হয়।
প্রবীণ এই অভিনেতার দুই পায়ের হাঁটুতে সমস্যার কারণে দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে ভীষণ অসুস্থ তিনি। বড় ছেলে মিঠুন ও মেজো ছেলে নিপুণের সঙ্গেই থাকেন রাজধানীর ধানমন্ডির ১ নম্বর রোডের একটি বাসায়।
প্রবীর মিত্রের বর্তমান অবস্থা নিয়ে বড় ছেলে মিঠুন জানান, তার বাবার ঘুমের নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই। যখন ইচ্ছা তখন ঘুমান। আর একটি নির্দিষ্ট রুমের বাইরে তিনি সাধারণত বের হন না। একটি ঘরেই সময় কাটে প্রবীর মিত্রের। চার বছর ধরে এই বাসাতে আছেন প্রবীর মিত্র। একদমই কোনো খোঁজখবর রাখেন না প্রবীর মিত্রের দীর্ঘদিনের কর্মস্থলের প্রিয়জনরা। এই অভিনেতার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু ছিলেন কিংবদন্তি অভিনেতা এ টি এম শামসুজ্জামান। তার সঙ্গে শেষবার আড্ডাও দিতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু শেষমেশ তা আর হয়নি। এখন আর কাউকে দেখার ইচ্ছাও নেই তার। খুব কম কথা বলেন।
মিঠুন আরও জানান, তার বাবার জন্মদিনে তার বড় বোন ফেরদৌস পারভীন বাসায় আসেন। সবাই মিলে বাবাকে একটু আনন্দ দেওয়ার চেষ্টা করেন। তার মা নাজমুন্নাহার মারা গেছেন ২০০০ সালে। আর তার ছোট ভাই আকাশ ২০১২ সালে মারা গেছেন। এরপর থেকেই তার বাবাও যেন কেমন হয়ে যান। বাবার জন্য সবার কাছে দোয়া চান তিনি।
১৯৮২ সালে প্রবীর মিত্র মহিউদ্দিন পরিচালিত ‘বড় ভালো লোক ছিল’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। এর পর থেকে চার শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে তিনি ২০১৮ সালে ‘আজীবন সম্মাননা’তেও ভূষিত হয়েছেন।
তবে একুশে পদক কিংবা স্বাধীনতা পদক পাননি তিনি। নায়ক হিসেবে প্রবীর মিত্রের প্রথম চলচ্চিত্র ছিল জহির রায়হানের শেষ সহকারী শেখ নজরুল ও ইলতুত মিশ পরিচালিত ‘চাবুক’। এতে প্রবীর মিত্রের নায়িকা ছিলেন কবরী। সর্বশেষ প্রবীর মিত্র এসডি রুবেল পরিচালিত ‘বৃদ্ধাশ্রম’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। এরপর আর কোনো চলচ্চিত্রে অভিনয় করেননি তিনি।

