শাবি শিক্ষার্থী-নিরাপত্তা কর্মচারীকে প্রাণনাশের হুমকি, থানায় জিডি

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২৪, ০৯:৩৬

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) এক শিক্ষার্থী ও সরকারী নিরাপত্তাকর্মীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সিনিয়র নিরাপত্তা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সাইফের ছোট ভাই শাহ তাজুল ইসলাম রুমেলের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় দুজনই সিলেটের জালালাবাদ থানায় জিডি করেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন।

ভুক্তভোগী নবাব শরীফ সজীব বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের (২০১৮-১৯) শিক্ষাবর্ষের  শিক্ষার্থী ও মো.সাকিল আহমদ নোমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকারী নিরাপত্তাকর্মী।

জিডিতে নবাব শরীফ সজীব উল্লেখ করেন, গত শনিবার রাত ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক নিরাপত্তা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সাইফের ছোট ভাই পরিচয়ে আমাকে একজন কল দেয়। কল দিয়ে এর আগের দিন শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত নিরাপত্তাকর্মীদের সাথে নিরাপত্তা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সাইফের একটি ঘটনার জের ধরে শাহ তাজুল ইসলাম রুমেল আমাকে হাড়গোড় ভেঙ্গে মেরে ফেলার হুমকি দেন।

মো. সাকিল আহমদ নোমান তার জিডিতে উল্লেখ করেন, গত শনিবার রাত ৩টা ১৮ মিনিটে শাবিপ্রবির সাবেক নিরাপত্তা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সাইফের ছোট ভাই পরিচয়ে কল দেয় শাহ তাজুল ইসলাম রুমেল। কল দিয়ে এর আগের দিন শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে সাইফুল ইসলাম সাইফের ঘটে যাওয়া ঘটনার জের ধরে শাহ তাজুল ইসলাম রুমেল আমাকে আগ্নেয়াস্ত্র দ্বারা গুলি করে মেরে ফেলার হুমকী দেন।

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সাইফ দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত যমুনা সেইফ গার্ড সার্ভিস লিমিটিডের নিরপত্তাকর্মীদের সাথে নানাভাবে দুর্নীতি করে আসছে। এছাড়াও অন্যায়ভাবে ৩ জনকে চাকরিচ্যুত করেছে বলে জানান নিরাপত্তা কর্মীরা। এছাড়া সরকারিভাবে কর্মরত নিরাপত্তা কর্মচারীদের সঙ্গেও অসদাচরণ করার অভিযোগ রয়েছে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে গত শুক্রবার নিরাপত্তাকর্মীরা সবাই সাইফুল ইসলাম সাইফের পদত্যাগ চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে জড়ো হয়। নিরাপত্তা কর্মীদের চাপের মুখে সাইফুল ইসলাম সাইফ তিনজনের চাকরি ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হয়। পাশাপাশি নিজেও চাকরি থেকে পদত্যাগ করেন।

সেদিন নিরাপত্তা কর্মচারীদের দাবির সঙ্গে একমত হন ভুক্তভোগী মো. শাকিল আহমদ নোমান। অন্যদিকে সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে নিরাপত্তা কর্মচারিদের দাবির সঙ্গেও সংহতি প্রকাশ করেছিলো শিক্ষার্থী নবাব শরীফ সজিবও।

জিডি সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে জালালাবাদ থানার এস আই পিযুষ কান্তি দাসকে একাধিবার কল দিলে সাড়া পাওয়া যায়নি।

ইত্তেফাক/এসজেড