ঝিকরগাছায় প্রধান শিক্ষকের অপসরণের দাবিতে বিক্ষোভ 

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২৪, ২২:১৩

যশোরের ঝিকরগাছায় সরকারি বহুমুখী মডেল হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষকের অপসরণসহ কয়েকদফা দাবি নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। 

বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) সকাল ১০টাই স্কুল ক্যাম্পাসের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন স্কুলের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। 

বিক্ষোভে বক্তব্য দিচ্ছেন এক প্রাক্তন শিক্ষার্থী। ছবি: ইত্তেফাক

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিক্ষোভে স্কুলের বর্তমান প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান আজাদের বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার কথা তুলে ধরেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় প্রধান শিক্ষকের অপসরণসহ ও স্কুল প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিতে নানা স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠেন তারা। পরে শিক্ষকরা এসে তাদের শান্ত করেন। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক শিক্ষার্থী বলেন, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের কথা শুনে আসছি। আমরা তদন্ত সাপেক্ষে বিচার চাই। কোনো দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে আমরা প্রধান শিক্ষক হিসেবে মেনে নিব না। 

প্লাকার্ড হাতে মিছিল করছে শিক্ষার্থীরা। ছবি: ইত্তেফাক

স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থী সাদমান সোবহান ইমরান বলেন, এক সময়ের স্বনামধন্য স্কুলটি দিনে দিনে অধঃপতনে যাচ্ছে। সরকারি হওয়ার আগে থেকেই লেখাপড়া, খেলাধুলাসহ সকল কার্যক্রমে পিছিয়ে পড়তে থাকে এম,এল স্কুল। প্রধান শিক্ষকের স্বেচ্ছাচারিতার জন্যেই এই অধঃপতন হচ্ছে। 

বিক্ষোভে শিক্ষার্থীরা ২৫ আগস্ট-এর মধ্যে প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগ দাবি করেন। এ ছাড়াও স্কুলের সব দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্ত ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ, প্রতিটা খাতের আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব, নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বাধ্যতামূলক ক্লাস নেওয়া, স্কুলের অতীত ঐতিহ্য এবং সুনাম ফিরিয়ে আনা, অবৈধ বেতন নেওয়া বন্ধ করাসহ বেশ কিছু দাবি জানানো হয়।

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের শান্ত করতে কথা বলছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। ছবি: ইত্তেফাক

স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক এ,এফ,এম সাজ্জাদুল আলম ইত্তেফাককে বলেন, ছাত্ররা কিছু দাবি নিয়ে বিক্ষোভ করেছে। তাদেরকে অভিযোগ পত্র জমা দিতে বলা হয়েছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রদান করলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নিবেন।

তিনি আরও বলেন, প্রধান শিক্ষক কিছুদিন ধরে অনুপস্থিত আছেন। তিনি মৌখিক সাতদিনের ছুটি নিয়েছিলেন। আজকে ভার্চুয়ালি ১ মাসের মেডিকেল ছুটির  আবেদন জমা দিয়েছেন। তবে তার মেডিকেল পেপারে একজন গাইনি চিকিৎসকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। 

অভিযোগের ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান আজাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। 

ইত্তেফাক/এসএএস