শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব, শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের মতো আবাহনীও এবারের প্রিমিয়ার ফুটবল লিগে না খেলার পথে যাচ্ছিল। রাসেল-জামালের কর্মকর্তাদের দাবি তাদের পেছন থেকে পৃষ্ঠপোষক বসুন্ধরা কিংস সরে গেছে। এখন তারা অর্থ দিতে পারবে না। একই পথে যাচ্ছিল পেশাদার লিগের প্রথম হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন আবাহনী। শুরুতে তাদের এমন অবস্থা না থাকলেও পরে আবাহনীও না খেলার পথে যাচ্ছিল।
আবাহনী যদি না থাকে প্রিমিয়ার লিগটা আকর্ষণ আরও নষ্ট হতো। বাফুফে হতে শেখ রাসেল, শেখ জামাল এবং আবাহনীর জন্য চেষ্টা করা হয়, তারা যেন সরে না যায়। রাসেল-জামালকে ফেরাতে না পারলেও আবাহনীকে ফেরাতে পেরেছে। বৃহস্পতিবার বিকালে নিশ্চিত হয়েছে আবাহনী খেলবে। তার আগ পর্যন্ত আবাহনী শেষ ১১ জনের নাম জমা দিচ্ছিল না। আগেই তারা ২১ জনের নাম রেজিস্ট্রেশন করিয়ে রেখেছিল। ফুটবল দলবদলের জন্য স্প্যানিশ কোচ এবং দেশি ফুটবলারদের সঙ্গে আলোচনা সেরে রাখে।
জানা যায়, প্রায় ১১ কোটি টাকা খরচা হয়েছিল। গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর আবাহনীর চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান গ্রেফতার হয়েছেন, ডাইরেক্টর ইনচার্জ কাজী নাবিল আহমেদের কোনো খোঁজ নেই। আর আবাহনীর অন্য পরিচালকরাও দূরে সরে গিয়েছেন। ফুটবল দল গঠনে সালমান এফ রহমানই বড় ভূমিকা রাখতেন, এখন যেসব পরিচালক রয়েছেন তারা আবাহনীর নাম শুনলেই সরে যাচ্ছেন। এক-দুই জন ছাড়া আবাহনীর বিষয়ে এখন কেউ কথা বলতে চাইছেন না।
বাফুফে হতে আবাহনীর বিভিন্ন লোকজনের সঙ্গে কথা বলে, দেশের ফুটবলের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে এগিয়ে আসার অনুরোধ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালে একটা সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, আবাহনী খেলবে। তবে টাকা দেওয়ার ব্যাপারে বেশি কিছু করা যাবে না। ১১ কোটি টাকা খরচ হয়েছে আর কিছু টাকা হলে আবাহনীকে টিকিয়ে রাখা যায়। আবাহনীর বিষয়ে বাফুফে হতে সরকারের সঙ্গে আলোচনা হয়, এরপরই আবাহনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়। তবে বিদেশি ফুটবলার ছাড়াই আবাহনীকে খেলতে হবে দেশি খেলোয়াড় নিয়ে।
চট্টগ্রাম আবাহনীরও একই পরিস্থিতি ছিল। তাদের কর্মকর্তারা উধাও। বিশেষ করে চট্টগ্রাম আবাহনীর মহাসচিব সামশুল হক চৌধুরী দল গঠনের ব্যাপারে এগিয়ে আসছিলেন না। ফোন বন্ধ, জরুরি দরকার হলে কথা বলছেন। চট্টগ্রামের ছেলে জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার মামুনুল ইসলাম তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু জাতীয় দলের আরেক সাবেক ফুটবলার জাহিদ হাসান এমিলিকে নিয়ে চট্টগ্রাম আবাহনীকে বাঁচানোর জন্য মাঠে নেমেছেন। এমিলি বরিশালের ছেলে। কিন্তু মামুনুল ইসলামের কথায় এগিয়ে এসেছেন, বাফুফের সঙ্গে কথা বলে কাজ করতে নেমে শুরুতে বিপাকে পড়েছিলেন।
বৃহস্পতিবার দলবদলের শেষ দিনে কম্পিটিশন কমিটি চট্টগ্রাম আবাহনীর অনুমতি ছাড়া দলবদলের ফরম দিচ্ছিল না এমিলিদের হাতে। সামশুল হক চৌধুরীর সঙ্গে কথাও বলতে পারছিলেন না এমিলি। ফোন বন্ধ পাচ্ছিলেন। বাফুফের সহযোগিতায় নানা জায়গায় যোগাযোগ করে রেজিস্ট্রেশন ফরম সংগ্রহ করার চেষ্টায় সফল হন এমিলি। বাফুফের সহায়তায় আপাতত চট্টগ্রাম আবাহনী যেমন বাঁচল, তেমনি কিছু ফুটবলারের ক্যারিয়ারও বেঁচে গেল।
