লক্ষ্মীপুরে বন্যায় দুই শতাধিক পানের বরজ নষ্ট 

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০২৪, ১৯:৩৪

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার দক্ষিণ চর আবাবিল ও উত্তর চর আবাবিল ইউনিয়নে বন্যার হাঁটু পরিমাণ পানিতে প্রায় শতাধিক পানের বরজ নষ্ট হয়ে গেছে। উপজেলার মেঘনা নদীর তীরের ক্যাম্পের হাট ও হায়দরগঞ্জ নামক দুই গ্রামের ‍দুশোটি পানের বরজ সহস্রাধিক মানুষের জীবিকার মাধ্যম। এবারের বন্যায় প্রায় সব বরজই নষ্ট হয়ে গেছে। আয়ের একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে দিশাহারা সেখানকার পানচাষিরা।

সব মিলিয়ে রায়পুর উপজেলায় প্রায় ২ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন পানচাষিরা।

বুধবার দুই ইউনিয়নে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বরজগুলোতে হাঁটু পরিমাণ বন্যার পানি রয়েছে। এক বরজে আব্দুল করিম নামের এক চাষি পচে যাওয়া পানের গাছ পরিষ্কার করছেন। তিনি বলেন, ১২ বছর ধরে ভ্যান চালিয়ে জমিয়েছেন ৪ লাখ টাকা। সেই টাকা দিয়ে দুই বছর আগে ১৫ শতক জমিতে শুরু করেন পান চাষ। দুই ছেলেমেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে তার সংসার ভালোই চলছিল। কিন্তু এবারের বন্যায় পুরো বরজ পচে গেছে। আয়ের অন্য কোনো পথ নেই।

এ গ্রামের আমেনা খাতুন (৪০) বলেন, পাঁচ বছর আগে তার স্বামী পা ভেঙে পঙ্গু হয়ে পড়েন। সংসারের দায়িত্ব আসে তার কাঁধে। একমাত্র অবলম্বন ছিল ছয় শতক জমির একটি পানের বরজ। বন্যায় পুরো বরজই নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, বরজ তৈরি যেমন ব্যয় সাপেক্ষ তেমনি সময় সাপেক্ষ। এক বিঘার একটি বরজ তৈরি করতে দেড় থেকে দুই মাস সময় লাগে।

একই রকম ক্ষতির শিকার প্রদীব রায়, আনোয়ার, জাকির ও শ্যামল। তারা বলেন, বন্যায় বসতবাড়িতে পানি ঢুকেছে। আয়ের পথও বন্ধ হয়ে গেছে। শুধু পানগাছ পচে যায়নি, পুরো বরজ নষ্ট হয়েছে। তাদের দাবি, এতে তাদের প্রায় দুই কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

দক্ষিণ চর আবাবিল ইউনিয়নের জাকির হোসেন বলেন, ১০ শতাংশ জমি লিজ নিয়ে গত দুই বছর আগে পানের বরজটি তৈরি করেছিলাম। গত ১০ দিন আগে পানের বরজে বন্যার পানি ঢুকেছে। পানি আর বের হয়নি। পানি থাকার কারণে গাছের গোড়া পচে পান বরজ পুরোটাই নষ্ট হয়ে গেছে। এতে আমার কমপক্ষে ১ লাখ টাকার পান নষ্ট হয়েছে। আর রক্ষণাবেক্ষণ ধরলে দুই লাখ টাকার মতো লোকসান হবে।

দক্ষিণ চর আবাবিল ইউপির চেয়ারম্যান জিকু হাওলাদার বলেন, বিষয়টি তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।
 
রায়পুর উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা এটিএম খোরশেদ আলম বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত বরজগুলো পরিদর্শন করে তালিকা তৈরির কাজ শুরু হবে। বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।

ইত্তেফাক/পিও