তিন দফা দাবিতে বিজ্ঞাপনচিত্র নির্মাতাদের ধর্মঘটের ডাক

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ২২:১৫

ভিজ্যুয়াল মাধ্যমে বড় একটি অংশ জুড়ে আছে বিজ্ঞাপনচিত্র। পণ্যর বিজ্ঞাপন তৈরির জন্য কাজ করে নির্মাতা, এজেন্সি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান। এবার তিন দফা দাবিতে বিজ্ঞাপন নির্মাতারা ডেকেছেন অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট! তাতে সায় দিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো।

বিজ্ঞাপনচিত্র নির্মাতাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব অ্যাডফিল্ম অ্যান্ড কনটেন্ট প্রডিউসার্স (বিএএসিপি) এই ধর্মঘট ঘোষণা করেছে।

রোববার (১ সেপ্টেম্বর) থেকে তিনটি দাবি নিয়ে এই কর্মসূচি পালন করছেন সংগঠনের সদস্যরা।
দাবি তিনটি হলো- পূর্বের বকেয়া নিষ্পত্তি, সময়মতো কাজের আদেশ (ওয়ার্ক অর্ডার) দেওয়া এবং ⁠৭৫ শতাংশ অগ্রিম অর্থ প্রদানের পর অবশিষ্ট ২৫ শতাংশ বিলিংয়ের ৪৫ দিনের মধ্যে প্রদান।

বিএএসিপি’র নেতারা বলছেন, বাংলাদেশ যেহেতু ব্যাপক সংস্কারের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তাই বিজ্ঞাপনচিত্র শিল্পকেও সংস্কার করার এটাই উপযুক্ত সময়। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন তারা।

বিএএসিপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান তারেক। ছবি: সংগৃহীত

বিএএসিপির আহ্বায়ক মো. হাবিবুর রহমান তারেক গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘বিজ্ঞাপনী সংস্থাগুলোর সঙ্গে আমরা কয়েক দফা একসঙ্গে বসে আলোচনা করেছি। এরপর ই-মেইল করে সংকট নিরসনের আহ্বান জানিয়েছি। কিন্তু কোনো সমস্যার সমাধান না হওয়ায় কর্মবিরতিতে যেতে বাধ্য হয়েছি আমরা।’

বিজ্ঞাপনচিত্র নির্মাণে সম্পৃক্ত অন্যান্য সংগঠন যেমন অ্যাডভার্টাইজিং অ্যান্ড ফিল্মমেকারস অ্যাসোসিয়েশন (এডিএফএ), বাংলাদেশ অ্যালায়েন্স অব সিনেমাটোগ্রাফারস (বিএসি), পোস্ট প্রডাকশন অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (পিএবি), আর্ট ডিরেক্টরস অ্যান্ড কস্টিউম ডিজাইনার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, বিএএএমএস, মেকআপ, প্রডাকশন ম্যানেজার, লাইট, ক্যামেরা, কাস্টিং পরিচালক এবং সেট কারিগররা ধর্মঘটকে সমর্থন দিয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকার কথা জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপনের শুটিংয়ে ফাঁকে পরিচালক আদনান আল রাজীব ও প্রীতম হাসান। ছবি: সংগৃহীত

বিজ্ঞাপন এজেন্সি ও ক্লায়েন্ট হিসেবে প্রযোজকদের দাবিকে যৌক্তিক দাবি বলেছেন এশিয়াটিকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর নাভিল ফেরদৌস হাসান। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এটা যৌক্তিক দাবি। কিন্তু আমাদেরও কিছু প্রতিবন্ধকতায় পড়তে হয়। আমরা ক্লায়েন্টের কাছ থেকে অনেক সময় ঠিকমতো অর্থ পাই না, আমাদের ঘুরতে হয়। আবার যে অ্যাডভান্স পাই, সেটা দিয়ে কাজ ওঠানো সম্ভব হয় না। আমরাও ক্লায়েন্টের সঙ্গে কথা বলব, আলোচনা করব। তারা নিয়মগুলো মানলেই আমরা নিয়ম মেনে কাজ করতে পারব। আমরাও এর একটা সমাধান চাই। শৃঙ্খলা ফিরুক এটাই চাই।’

রানআউট প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার পরিচালক আদনান আল রাজীব গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমাদের বড় একটা ইন্ডাস্ট্রি। দেখা যায়, ক্রমেই অর্থ লেনদেন নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়, কখনো টাকা পেতে এক বছরের বেশি সময় লেগে যায়। এ সময়ে অ্যাডভান্স কমে যাওয়াসহ নানা ধরনের সমস্যা বেড়েই যাচ্ছে। আমরা এ সমস্যা বা জটিলতাগুলোর উত্তরণ চাই।’

ইত্তেফাক/এসএ