আয়নাঘর রহস্য

দেড় মাস বন্দি থাকার পর ঘরে ফিরেছিলেন মোবাশ্বার হাসান

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৭:০০

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোবাশ্বার হাসান ২০১৭ সালের ৭ নভেম্বর নিখোঁজ হন। নিখোঁজ হওয়ার দেড় মাস পরে ২১ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে তার বনশ্রীর বাসায় ফিরে আসেন। বন্দি হওয়ার দিন হাসান তার কর্মস্থল নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব শেষে দুপুরে আইডিবি ভবনে ইউএনডিপির একটি অনুষ্ঠান যোগ দেন। অনুষ্ঠান শেষে উবারের একটি গাড়িতে করে রোকেয়া সরণির দিকে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ এক ব্যক্তি সিগন্যাল দিয়ে তার গাড়ি থামিয়ে দেন। গাড়ি থামার পরপরই ঐ ব্যক্তি ‘চোরাই গাড়ি’ বলে গাড়ি থেকে দ্রুত নামতে বলেন। এর পর পেছন থেকে কোনো এক ব্যক্তি তার চোখে কিছু একটা লাগিয়ে দেয়। পেছন থেকে জোরে মুখ চেপে ধরে আরেক জন। সঙ্গে সঙ্গে অজ্ঞান হয়ে যান তিনি। জ্ঞান ফিরে তিনি দেখেন, তাকে একটি বদ্ধ ঘরে রাখা হয়েছে। ঘরটির দরজা-জানালা সব বন্ধ। হাত পেছনের দিকে বাধা। এ সময় তিনি পাশের রুম থেকে বেশ কয়েক জন লোকের কথা বলার শব্দ শুনতে পান।

মোবাশ্বার হাসান তার পরিচিতজনদের কাছে সিজার নামে পরিচিত। বন্দি হওয়ার এক বছর আগ থেকে তিনি বেসরকারি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পলিটিক্যাল সায়েন্স অ্যান্ড সোশিওলজি ডিপার্টমেন্টে শিক্ষকতা করছিলেন। ২০০৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে তিনি স্নাতকোত্তর পাশ করেন। সে সময় তিনি বছর খানেক ঢাকায় সাংবাদিকতা করেছেন। এরপর তিনি ব্রিটেনের ডান্ডি ইউনিভার্সিটি থেকে রাজনীতি বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। পরে অস্ট্রেলিয়া গ্রিফিথ ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। বাংলাদেশের রাজনীতিতে ইসলামের প্রভাব কতটা ভূমিকা রাখছে সেটি ছিল তার পিএইচডি থিসিসের বিষয়। সেই সময় তিনি ইসলাম, রাজনীতি এবং জঙ্গিবাদ বিষয়ে দেশে-বিদেশে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এবং জার্নালে গবেষণামূলক প্রবন্ধ লিখেছেন। নিজের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত ছিলেন হাসান। সেজন্য বাসার সামনে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরাও স্থাপন করেছিলেন তিনি। কিছুদিন আগে তার বাসায় একজন অপরিচিত ব্যক্তি এসে তার খোঁজ করেছিলেন।

বন্দি দশা থেকে মুক্তি পেয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, দেড় মাস একটি অন্ধকার ঘরে আটকে রাখা হয়েছিল তাকে। ঘরের একটি মাত্র জানালা সবসময়ই বন্ধ থাকত। তাকে পচা-বাসি খাবার খেতে দেওয়া হতো। টাকা পয়সা নিয়ে কয়েক জনের মধ্যে কথাও বলতে শুনেছেন তিনি। তিনি জানান, বন্দি হওয়ার সময় তার কাছে ২৭ হাজার টাকা ছিল, যা অপহরণকারীরা নিয়ে নেয়।

মুক্ত হতে পারায় সন্তোষ প্রকাশ করেন মোবাশ্বার। ফেরার রাতে তার চোখ বেঁধে তাকে একটি গাড়িতে তুলেছিল অপহরণকারীরা। এরপর তাকে বিমানবন্দর সড়কের কোনো এক জায়গায় নামিয়ে দেয় অপহরণকারীর। তারা বলে, তুই চলে যা। পেছনের দিকে তাকালে মেরে ফেলব। সেখান থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় রাত ১টার দিকে বাসায় ফেরেন। সে সময় পরিবার থেকে জানানো হয়, তাকে টাকার জন্য অপহরণ করা হতে পারে।

ইত্তেফাক/এমএএম