গাজী টায়ার্স থেকে হাড়সহ মাথার খুলি থানায় জমা

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১৩:৫৩

রূপগঞ্জে গাজী টায়ার্স কারখানায় আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ছয়তলা ভবনে মানুষের মাথার খুলি ও হাড়গোড় পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন নিখোঁজদের স্বজনরা। এগুলো তারা সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) পুলিশের কাছে হস্তান্তরও করেছেন।

যদিও পুলিশ তা মানুষের দেহাবশেষ কিনা নিশ্চিত করেনি। তারা বলছেন, ফরেনসিক পরীক্ষার পর এ বিষয়ে জানা যাবে।

নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজীকে গ্রেপ্তারের পর গত ২৫ আগস্ট রূপসী এলাকায় তার মালিকানাধীন কারখানাটিতে মিছিল নিয়ে ঢোকেন সহস্রাধিক স্থানীয়। তারা মেশিন, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন সামগ্রী সরিয়ে নেওয়ার এক পর্যায়ে রাত ৯টার দিকে কারখানাটিতে আগুন লাগে। এরপর থেকে শতাধিক মানুষ নিখোঁজ রয়েছে। ওই নিখোঁজদের তালিকা করতে গত রোববার কারখানার ভেতর গণশুনানি করেন জেলা প্রশাসন। শুনানি শেষে স্বজনরা ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটিতে ঢুকে পড়েন। পরে তৃতীয় তলার মেঝেতে পুড়ে যাওয়া হাড় ও মাথার খুলিসদৃশ কিছু বস্তু পান তারা।

জমা দেওয়া দেহাবশেষ। ছবি: সংগৃহীত

উপজেলার মৈকুলী গ্রামের বৈদ্যুতিক মিস্ত্রি নিখোঁজ শাহাদাত হোসেনের বোন সিনথিয়া অন্যদের সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটির তৃতীয় তলা পর্যন্ত উঠেছিলেন।

তিনি বলেন, ‘সবার সঙ্গে আমিও ফ্যাক্টরিতে ঢুইকা যাই। তিনতলায় হাড়গোড় দেখছি অনেক। অনেকেই হাতে করে নিয়া গেছে। আমিও একটা খুলি নিয়া আসছি। পরে অন্যদের সঙ্গে খুলিটি পুলিশের কাছে দিয়েছি।’

জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হামিদুর রহমান জানান, তারা সকাল ১০টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত গণশুনানি করে নিখোঁজ ৮০ জনের তালিকা করেছেন। স্বজনের কাছ থেকে নিখোঁজদের ছবি সংগ্রহ এবং নাম-ঠিকানা লিপিবদ্ধ করেছেন। তাদের সবশেষ অবস্থান জানতে মোবাইল ফোন ট্র্যাকিং ব্যবস্থাও ব্যবহার করেছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় শিক্ষার্থী, উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সংস্থার তৈরি করা তালিকাগুলো যাচাই-বাছাই করে নিখোঁজের পূর্ণাঙ্গ তালিকা করা হবে। এরপর ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবেন।

দেহাবশেষ উদ্ধারের বিষয়ে তিনি বলেন, গণশুনানি শেষে আমরা উপজেলা পরিষদে যাওয়ার পর স্বজনরা ভবনটির ভেতরে ঢুকে কিছু হাড়গোড় পেয়েছে বলে জানতে পারি। পরে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশনায় পুলিশের মাধ্যমে সেগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রয়োজনে ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে এসব দেহাবশেষ শনাক্ত করা হবে।

রূপগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জোবায়ের হোসেন বলেন, নিখোঁজদের কয়েকজনের স্বজন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পরিত্যক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে উঠে হাড়গোড় ও খুলিসদৃশ কিছু বস্তু দেখতে পান। সেগুলো তারা আমাদের কাছে জমা দিয়ে গেছেন। পরবর্তী করণীয় বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

ইত্তেফাক/এসজেড