কল রেকর্ড ভাইরাল

আওয়ামী লীগ নেতার কাছে চাঁদা চাইলেন বিএনপি নেতা

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ২০:১৮

খুলনা মহানগর বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেন ও ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির আহবায়ক রিয়াজ শাহেদের একটি চাঁদাবাজির কল রেকর্ডের অডিও-ভিডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়েছে। 

বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে (ফেসবুকে) এই কল রেকর্ড ছড়িয়ে পড়ে। 

অডিও-ভিডিও কল রেকর্ডে বলতে শোনা যায়, তারা নগরীর ৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ খালিদ আহমেদের কাছে রাজনৈতিক সুবিধা দিতে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছে। তবে ঘটনাটি অস্বীকার করেছেন চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেন ও রিয়াজ শাহেদ।

অডিও-ভিডিও ক্লিপে খুলনা মহানগর বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেনকে বলতে শোনা যায়, আমাদের মেইন লোক হলো রিয়াজ, হয়তো জানেন। যাই হোক লোকাল পলিটিক্সে আপনি (শেখ খালিদ আহমেদ), বার বার বলতিছে যে, সে আমার ছোট বেলার বন্ধু, সে যেন না আসে। তার ব্যাপারটি একটু দেখতি হবেনে, যেন না ফাঁসে। ওর দিকে একটু খেয়াল-টেয়াল রাইখেন। তারপরও ওর জন্যি একটু করতি হবে। 

প্রতি উত্তরে আরেকজনকে বলতে শোনা যায়, ভাই কী করতে হবে, বলেন না? ও তো আমার ভাই, বন্ধু সমস্যা নেই। কী করতে হবে বললি, আমার জন্য একটু সুবিধা হয়। তখন হোসেনকে বলতে শোনা যায়, কিছু হেল্পটেল্প করা লাগবে। পাশ থেকে ফিসফিসিয়ে আরেকজন বলে দুই লাখ টাকা দিতে হবে। এ সময় হোসেনকে বলতে শোনা যায়, এখন তো কম-বেশি দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ম্যানেজ করা লাগবে। অপর ফোন থেকে  বলা হয়, আপনি বলেন, আপনি বললে আমার মনটা ঠাণ্ডা হয়ে যায়। 

এ সময় হোসেন বলেন, লাখ দুই টাকার ব্যবস্থা করে দিয়েন। এর উত্তরে সে বলে, আমি ব্যবস্থা করে দিচ্ছি ভাই, কোনো সমস্যা নেই।

এরপর হোসেন যার সঙ্গে কথা বলছিলেন, তার আরেকটি কলে শোনা যায়, ভাইকে অনেক কষ্টে ম্যানেজ করেছি। তুই ওইটা ম্যানেজ কর বন্ধু। তখন সে জানতে চায়, তোকে কে ফোন দিয়েছিল। সে উত্তরে বলে উনি হলেন, আমাদের মহানগরের যুগ্ম আহবায়ক হোসেন ভাই। 

কল রেকর্ড  ভাইরাল হওয়ার বিষয়টিকে ষড়যন্ত্র বলে দাবি করে ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির আহবায়ক রিয়াজ শাহেদ বলেন, কল রেকর্ডটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে নানামুখী ষড়যন্ত্র করছে একটি স্বার্থান্বেষী মহল। যারা আমাকে হত্যার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে। তারাই এখন আমার রাজনৈতিক ইমেজ নষ্ট করতে বেনামে অপপ্রচারে পোস্টারিং করছে। তাতেও ক্ষান্ত না হয়ে অডিও ক্লিপ বানিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে। এই রেকর্ড ভয়েস নকল করার অ্যাপ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে।  

খুলনা মহানগর বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেন চাঁদা দাবির কথা অস্বীকার করে বলেন, অ্যাপসের মাধ্যমে ভয়েস কল নকল করে এখন এগুলো করা হচ্ছে। এই কল রেকর্ডটি একদম মিথ্যা, নকল, বানোয়াট। 

এ ব্যাপারে খুলনা মহানগর বিএনপির আহবায়ক অ্যাডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনা বলেন, আমি মহানগর বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেন ও ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির আহবায়ক রিয়াজ শাহেদের কল রেকর্ডটি শুনেছি। বুধবার রাতেই তাদেরকে শোকজ করা হয়েছে। তাদের কৈফিয়ত (জবাব) সন্তোষজনক না হলে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে।

ইত্তেফাক/এসএএস