ছাত্র-জনতা ও বিএনপি নেতার পাল্টাপাল্টি মামলা

উত্তপ্ত পীরগাছায় অর্ধদিবস হরতালের ডাক

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ২০:৫১

ছাত্র-জনতা ও বিএনপি নেতার পাল্টাপাল্টি মামলা ও কর্মসূচিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রংপুরের পীরগাছা। উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আমিনুল ইসলাম রাঙ্গার নামে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সর্বাত্মক হরতালের ডাক দিয়েছে পীরগাছা বাজার দোকান মালিক ব্যবসায়ী সমিতি।

জানা গেছে, পীরগাছা বাজার দোকান মালিক ব্যবসায়ী সমিতির কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে ২২ জনের নামে মামলা করেছেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আমিনুল ইসলাম রাঙ্গা। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। তারা রাঙ্গার পদত্যাগসহ মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। পরে ছাত্র-জনতার বিজয় মিছিলে গুলিবর্ষণের ঘটনায় উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আমিনুল ইসলাম রাঙ্গার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। এরই প্রতিবাদে রবিবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকালে বিএনপি আহবায়কের নামে করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করা হয়। সমাবেশে ব্যবসায়ী সমিতি সংহতি প্রকাশ করে রাঙ্গার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার দাবিতে সোমবার ভোর ৬টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সর্বাত্মক হরতালের ডাক দেয়।

এর আগে শনিবার রাতে বিএনপি আহবায়কের নামে মামলাটি দায়ের করেন গুলিতে আহত শিক্ষার্থী একরামুল হক। এর একদিন আগে শুক্রবার ২২ শিক্ষার্থীর নামে মামলা করেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আমিনুল ইসলাম রাঙ্গা। দুটি মামলার বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন পীরগাছা থানার ওসি সুশান্ত কুমার সরকার। 

বাদী একরামুল হক মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন, গত ৫ আগস্ট সারা দেশের ন্যায় রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় ছাত্র-জনতার বিজয় মিছিল বের করে। মিছিলটি পীরগাছা সরকারি কলেজের কাছ থেকে পীরগাছা জে.এন মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। এ সময় ইউনিয়ন পরিষদের সামনে পৌঁছালে আসামি আমিনুল ইসলাম রাঙ্গা তার চাচা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ মিলনের ব্যক্তিগত অফিস রক্ষার্থে বিজয় মিছিলকে উদ্দেশ্য করে চার রাউন্ড গুলিবর্ষণ করেন। বাদী তাৎক্ষণিক মাটিতে শুয়ে পড়ায় ও গুলি তার বাম হাতে লাগায় তিনি গুরুতর রক্তাক্ত হন।

ছাত্র-জনতার মামলায় বিজয় মিছিলে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বাধা প্রদান ও গুলিবর্ষণ করার অভিযোগ আনা হয়েছে। এতে বিএনপি নেতা আমিনুল ইসলাম রাঙ্গাকে ছাড়াও অজ্ঞাত আরও ১৫-২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

বাদী একরামুল হক জানান, ওইদিন ঘটনার পর তিনি স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে এজাহার দায়ের করতে বিলম্ব হয়েছে। তবে বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকায় ওই বিএনপি নেতাসহ অজ্ঞাত ১৫-২০ জনের নামে মামলা দায়ের করেছেন।

এদিকে গত শুক্রবার রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অংশ নেওয়া ২২ শিক্ষার্থীর নামে মামলা দায়ের করেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আমিনুল ইসলাম রাঙ্গা। এ মামলার প্রতিবাদে শনিবার বিকেল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত পীরগাছা থানার সামনের সড়কে বিক্ষোভসহ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা।

এদিকে গত শুক্রবার রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অংশ নেওয়া ২২ শিক্ষার্থীর নামে মামলা দায়ের করেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আমিনুল ইসলাম রাঙ্গা। এ মামলার প্রতিবাদে শনিবার বিকেল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত পীরগাছা থানার সামনের সড়কে বিক্ষোভসহ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা।

বিএনপি নেতার করা মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগস্ট সোমবার বিকেল ৪টার দিকে পীরগাছা বাজার দোকান মালিক ব্যবসায়ী সমিতির কার্যালয়ে বিজয়ের পর ছাত্র-জনতা লোহার রড, হকিস্টিক, লোহার পাইপ, চাইনিজ কুড়াল, হাসুয়া দ্বারা পীরগাছা বাজার দোকান মালিক ব্যবসায়ী সমিতির কার্যালয়ের তালা ভাঙে। এরপর ১৫ হাজার টাকার কাচের গ্লাস, টেবিল, ৩৫ হাজার টাকার ৪০টি চেয়ার, ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার ৩২টি সিসি ক্যামেরায় হামলা করা হয়। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার পীরগাছা থানায় রব্বানি ওরফে বাবু, শামিম মিয়া, অন্তর মিয়া, শাকিল মিয়া, জুয়েল মিয়া ও শাহিন মিয়াসহ ২২ শিক্ষার্থীকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়।

ইত্তেফাক/এসএএস