আশুলিয়ার অধিকাংশ তৈরি পোশাকশিল্প কারখানা খোলার পর রোববার সকাল থেকে অধিকাংশ তৈরি পোশাক কারখানায় দল বেঁধে কাজে যোগ দেন শ্রমিকরা। কিন্তু বিভিন্ন দাবিতে শ্রমিকরা কারখানার ভেতরে বিক্ষোভ শুরু করলে গতকাল রোববারও অন্তত ৩০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
এর আগে, বেলা ১১টা পর্যন্ত বেশির ভাগ কারখানার পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক থাকলেও নিউএইজ, আল-মুসলিমসহ কয়েকটি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণার পর ধীরে ধীরে অন্য কারখানাগুলোতেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
আন্দোলনকারী শ্রমিক ও শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার সকাল থেকে শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার ডিইপিজেডসহ অধিকাংশ তৈরি পোশাক কারখানায় দল বেঁধে কাজে যোগ দেন শ্রমিকরা। তবে বাইপাইল-আব্দুল্লাহপুর সড়কের নরসিংহপুর এলাকায় বেশ কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা ভেতরে প্রবেশ করে বিভিন্ন দাবিতে কর্মবিরতি শুরু করেন। একপর্যায়ে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কারখানা কর্তৃপক্ষ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করলে তারা বাড়ি ফিরে যান। বিষয়টি আশপাশের কারখানায় জানাজানি হওয়ায় নিরাপত্তার কারণে সেগুলোতেও ছুটি ঘোষণা করে কারখানা কর্তৃপক্ষ। এর বাইরেও আরও বেশ কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা কাজ না করে কারখানার ভিতরে বসে থাকেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। গতকাল সকালে আশুলিয়ার অধিকাংশ কারখানা খুললেও ইয়াগি বাংলাদেশ, নিউএইজ, আল মুসলিম, জেনারেশন নেক্সটসহ অন্তত ২০টি কারখানার শ্রমিকরা বিভিন্ন দাবি তুলে কাজ না করে কারখানা থেকে বেরিয়ে যান। কারখানার অভ্যন্তরে বিশৃঙ্খলা তৈরি করেন লুসাকা, মাসকাট, বেক্সিমকো (২১ ইউনিট) নিট কম্পোজিটসহ সাতটি কারখানার শ্রমিকরা।
গত কয়েক দিনে যেসব এলাকায় শ্রমিক বিক্ষোভের ঘটনা ঘটছে, সেসব এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সড়কে টহল দিচ্ছেন সেনাবাহিনী, র্যাব, বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা। এদিকে শনিবার রাতে যৌথ বাহিনী অভিযান পরিচালনা করে চার জনকে আটক করেছে। আটককৃতরা হলেন পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ থানার মোতালেব হোসেন (২৫), জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি থানার সেলিম রেজা (২১), ভোলা জেলার চরফ্যাশন থানার মো. রাসেল (২৩) এবং নওগাঁ জেলার আত্রাই থানার লিটন কুমার দাস (২৩)। আটকরা আশুলিয়ার নরসিংহপুর, ঘোষবাগ ও নিশ্চিন্তপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন বলে জানা গেছে।
আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার সারোয়ার আলম বলেন, শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া স্বাভাবিক রয়েছে। শ্রমিকরা সকালে কারখানায় প্রবেশ করে কাজে যোগ দিলেও সকাল ১০টার পর থেকে বিভিন্ন কারখানার ভেতরে কর্মবিরতি শুরু করেন। নিরাপত্তার স্বার্থে সব মিলিয়ে অন্তত ৩০টি কারখানায় সাধারণ ছুটি দিলে শ্রমিকরা বাসায় ফিরে যান।
কারখানার নিরাপত্তায় বিএনপি নেতাকর্মীদের পাহারা: সাভারের আশুলিয়ায় গার্মেন্টস সেক্টরে চলমান অস্থিরতা নিরসনে এবং গার্মেন্টস শিল্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাভারের সাবেক সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন বাবুর তত্ত্বাবধানে স্থানীয় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সকাল থেকে পাহারার ব্যবস্থা করেছেন। গতকাল রোববার সকালে আশুলিয়া এলাকার বিভিন্ন পোশাক কারখানা ঘুরে এমন দৃশ্য চোখে পড়েছে। এ ব্যাপারে সাবেক সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন বাবু বলেন, দলীয় হাইকমান্ডের নির্দেশনা মোতাবেক আমাদের নেতাকর্মীরা মাঠে থেকে কাজ করে যাচ্ছেন। পোশাক খাতসহ দেশের উন্নয়নে যারাই বাধা সৃষ্টি করতে চাইবে বিএনপি তাদের প্রতিহত করতে প্রস্তুত রয়েছে।

