ডেঙ্গুতে এক দিনেই ছয় শতাধিক রোগী হাসপাতালে ভর্তি

আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৩:০০

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৬১৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে মারা গেছেন এক জন। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ৯৭ জনের এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৬ হাজার ২৮৫ জন। গতকাল সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের দেওয়া তথ্য থেকে এটি জানা যায়।

এ বছর এই প্রথম এক দিনে এত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হলেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, সারা দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে বর্তমানে ১ হাজার ৫৮২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছেন। যার মধ্যে ঢাকায় ৯২৫ জন, বাকি ৬৫৭ জন ঢাকার বাইরে বিভিন্ন বিভাগে।

আগস্ট মাসে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন ৬ হাজার ৯৯৯ জন, মৃত্যু হয় ৩০ জনের। আর জুলাই মাসে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৬৯৯। ঐ মাসে মৃত্যু হয় ১২ জনের।

১ আগস্ট ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ৫১৭ জন। সপ্তাহ বাদে এ সংখ্যা দাঁড়ায় ৭ হাজার ৫৬৩ জনে। এর পরের সপ্তাহে সংক্রমণ বেড়ে দাঁড়ায় ৮ হাজার ৯৮০ জনে। পরের দুই সপ্তাহে রোগীর সংখ্যা বেড়ে যায় যথাক্রমে ১ হাজার ৭৬ এবং ২ হাজার ১৮৫ জনে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ৩২০ জন। আর শুধু আগস্ট মাসেই এ সংখ্যা প্রায় ৭ হাজার হয়ে যায়। আগস্টের মতো মৃত্যু আগের কোনো মাসে হয়নি।

দেশে ডেঙ্গুর বড় আকারে প্রাদুর্ভাব দেখা দেয় ২০০০ সালে। আর গত বছর (২০২৩) দেশের ইতিহাসে ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ সংক্রমণ ও মৃত্যু হয়। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসেই মূলত ডেঙ্গুতে সংক্রমণ এতটা বেড়ে যায় যে তা ছিল আগের ২৩ বছরের বেশি। আগের সব বছরে যত মৃত্যু হয়নি, গত বছর তা ছাড়িয়ে যায়। গত বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যুহার ছিল ০ দশমিক ৫৫ শতাংশ। এ হার বিশ্বের যে কোনো দেশের মধ্যে বেশি। এবার ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা অনেক কম হলেও মৃত্যুহার বেশি, এবার তা ০ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস, চলতি সেপ্টেম্বর মাসেও বৃষ্টি বাড়তে পারে। এই বৃষ্টি এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়ের অভাব এ বছরও ডেঙ্গু বাড়তে ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণাকেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) সংক্রামক রোগ বিভাগের বিজ্ঞানী মোহাম্মদ শফিউল আলম। তিনি বলেন, ‘২০২২ সালের স্মৃতি আমাদের আছে। তাই বর্ষা-পরবর্তী সময়ে এবারও ডেঙ্গুর শঙ্কা আছে। জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা ছাড়া কোনো উপায় নেই।

ইত্তেফাক/এমএএম