বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন

রংপুরে ৫৪ দিন পর ফল ব্যবসায়ীর মরদেহ উত্তোলন

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১৯:১০

রংপুরে ৫৪ দিন পর কবর থেকে ময়না তদন্তের জন্য উত্তোলন করা হলো ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানে গুলিতে নিহত ফল ব্যবসায়ী মেরাজুলের মরদেহ। গত উনিশে জুলাই রংপুর সিটি বাজারের সামনে পুলিশের গুলিতে নিহত ফল ব্যবসায়ী মেরাজুল ইসলাম।

বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নগরীর নিউ জুম্মাপাড়া কবরস্থান থেকে আদালতের আদেশে ময়না তদন্তের জন্য তার লাশ উত্তোলন করা হয়। পরে মরদেহটি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এসময় রংপুর জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার মাহমুদুল হাসানসহ সেনাবাহিনী, মেট্রোপলিটন পুলিশের কর্মকর্তা ও পরিবারের লোকজন উপস্থিত ছিলেন। 

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসান জানান, নগরীর জুম্মাপাড়া এলাকার শামসুল ইসলাম এর পুত্র  মেরাজুল নিহতের ঘটনায় তার মা আম্বিয়া খাতুন বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। আদালতের আদেশে বুধবার ময়না তদন্তের জন্য তার লাশ উত্তোলন করা হলো।ময়না তদন্ত শেষে যথাযথ নিয়মে আবারো তার লাশ দাফন করা হবে।

প্রসঙ্গত,গত ১৯ জুলাই বিকেলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রংপুর সিটি বাজারের সামনে পুলিশ ও আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের নির্বিচার গুলিতে আহত মেরাজুলকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে তিনি মারা যান। কিন্তু সে সময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চাপে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফন করে তার পরিবার। 

এই মামলায় মহানগর পুলিশের সদস্য, কর্মকর্তা, সিটি কর্পোরেশনের ৭ কাউন্সিলর, সাবেক মহিলা এমপি নাসিমা জামান ববি স্থানীয় আওয়ামীলগের ২১ নেতাকে আসামী করা হয়। 

আসামীরা হলেন, মহানগর পুলিশের উপ পুলিশ কমিশনার উত্পল কুমার পাল, এসি ইমরান হোসেন, এসি আরিফুজ্জামান, ধাপ পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মামুন, কোতয়ালী থানার এসআই গনেশ চন্দ্র,মজনু মিয়া, সাবেক মহিলা এমপি নাছিমা জামান ববি, সিটি করর্পোরেশনের কাউন্সিলর তৌহিদুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম, শাহজাদা আরমান, শাহাদত হোসেন, হারুণ অর রশিদ,জাহাঙ্গীর আলম তোতা,মহানগর আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদব তুষারকান্তি মন্ডল, জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ  সভাপতি রমজান আলী তুহিন, জেলা যুবলীগের সভাপতি বাবু লক্ষিণ চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান সিদ্দিক রনি, জেলা যুবলীগ নেতা ডিজেল আহমেদ, মহানগর যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক মুরাদ হোসেন, যুবলীগ নেতা  নেংরা মামুন,  আওয়ামীলীগ নেতা নবিউল্লাহ পান্নাসহ অজ্ঞাত আরো শতাধিক ব্যক্তি। 

ইত্তেফাক/এএইচপি