গাইবান্ধার সাঘাটায় যৌথবাহিনী আটক করার পর মারা যাওয়া ২ ব্যক্তিসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) অস্ত্র ও বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে সাঘাটা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) দীপক কুমার রায় বাদী হয়ে এই মামলা করেন।
মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ইবনে মিজান বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেনের বাড়িতে অস্ত্র আছে, এমন খবর পেয়ে যৌথবাহিনী অভিযান চালায়। এসময় মোশারফ হোসেনসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়। মোশারফের বাড়ি থেকে দেশীয় অস্ত্র ও ককটেল সাদৃশ্য বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে।
মামলার আসামী হলেন, আটক করার পর মারা যাওয়া দুইজন সোহরাব হোসেন ও শফিকুল ইসলাম এবং চিকিৎসাধীন থাকা তিনজন ইউপি চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন, শাহাদত হোসেন ও রিয়াজুল ইসলাম।
তবে মৃত ব্যক্তিকে আসামি করা প্রসঙ্গে মামলার বাদী দীপক কুমার রায় দাবি করেন, ওই দুই ব্যক্তি মারা যাওয়ার আগেই মঙ্গলবার সকালে আটককৃত পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মৃত ব্যক্তিকে আসামি করা প্রসঙ্গে গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইবনে মিজান বলেন, পরবর্তীতে মৃত ওই ব্যক্তির নাম আসামি থেকে বাদ যাবে।
এদিকে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শাহাদত হোসেনকে (৪৫) রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপর আহত দুইজনের মধ্যে ইউপি চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাহারায় গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আরেকজন রিয়াজুল ইসলাম (২৮) বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মোহাম্মদ আসিফ বলেন, ‘শাহাদত হোসেন আহত অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে এখানে ভর্তি হন। তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল ছিল। তাই উন্নত চিকিৎসার জন্য ওইদিন রাতেই তাকে রংপুরে পাঠানো হয়।
অপরদিকে মঙ্গলবার দুপুরে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে মারা যাওয়া সোহরাব হোসেনের লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। ময়নাতদন্ত শেষে বুধবার বিকেলে মরদেহ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আজ সন্ধ্যা ছয়টার দিকে পারিবারিক কবরস্থানে সোহরাবের দাফন সম্পন্ন হয়।
এ ছাড়া বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শফিকুল ইসলামের লাশের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে আজ হস্তাান্তর করা হয় বলে পারিবারিক সুত্রে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার তার জানাজা ও দাফন করা হবে।
প্রসঙ্গত. গত সোমবার গভীর রাতে রাতে সাঘাটায় যৌথবাহিনী অভিযানের সময় নির্যাতনে আটক দুজন মারা যান বলে অভিযোগ করেন স্বজনেরা। তবে অভিযানের সময় অসুস্থতাজনিত কারণে দুজনের মৃত্যু হয় বলে পুলিশ দাবি করেন। গত সোমবার গভীর রাতে আটক করার পর দুপুরে পৃথক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দুজন মারা যান। এ ঘটনায় এখনো তিনজন হাসপাতালে ভর্তি আছেন। মারা যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন সাঘাটা ইউপি চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেনের ভাতিজা একই ইউনিয়নের গোবিন্দী গ্রামের সোহরাব হোসেন আপেল (৩৫) ও চেয়ারম্যানের কাজের লোক একই গ্রামের শফিকুল ইসলাম (৪৫)। এরমধ্যে আপেল মঙ্গলবার দুপুরে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে এবং শফিকুল ইসলাম একইদিন সকালে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। আহত হন তিনজন। তারা হচ্ছেন সাঘাটা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন সুইট (৫৫) ও একই ইউনিয়নের বাঁশহাটা গ্রামের শাহাদত হোসেন পলাশ (৪৫) এবং চেয়ারম্যান মোশাররফের গাড়িচালক উত্তর সাতালিয়া গ্রামের রিয়াজুল ইসলাম রকি (২৮)।
