নাগেশ্বরীতে পানিতে ডুবে মারা গেছে আপন ভাই-বোনসহ ৪ জন শিশু। বুধবার বিকেলে উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়নের অষ্টআশির চর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার পৃথক ৩ জায়গা থেকে রংপুর ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরী দল ৩ শিশুর লাশ উদ্ধার করলেও এখনো নিখোঁজ ১টি শিশু।
পরিবার ও এলাকাবাসী জানায়, বুধবার বিকেলে নারায়নপুরের অষ্টআশির চরে ডাক্তার মনির উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম ও চতুর্থ শ্রেণির ৫ জন শিক্ষার্থী বিদ্যালয় থেকে ফিরে পার্শ্ববর্তী ব্রহ্মপুত্র নদের শাখা ব্রহ্মপুত্রছড়ায় গোসল করতে নামে। এক সময় তারা স্রোতের পাকে পড়ে ডুবে যেতে থাকে। জনৈক শফিকুল ইসলাম তা দেখে নদীতে লাফিয়ে হারান আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৭) কে উদ্ধার করতে পারলেও বাকী ৪ জন ডুবে ভেসে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও ঐদিন তাদের উদ্ধার করতে পারেনি এলাকাবাসী।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮ টার তাদের সন্ধানে পানিতে নামে রংপুর ফায়ার সার্ভিসের ৭ সদস্যের একটি ডুবুরী দল। সকাল ৯ টার দিকে ঘটনাস্থলের পাশ থেকে আহাদ আলীর পুত্র প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী আতিকুর রহমান (৭) এর লাশ উদ্ধার করে। সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার ভাটিতে চিলমারী উপজেলার রানীগঞ্জ ফকিরের হাট নামক স্থান থেকে আলম মিয়ার পুত্র প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী জুয়েল রানা (৭), কুজিয়ার চর থেকে নারায়নপুরের বাগমারা গ্রামের নজরুল ইসলামের পুত্র প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাজমুল ইসলাম (৭) এর লাশ উদ্ধার করা হয়। এখনো পাওয়া যায়নি আহাদ আলীর মেয়ে চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী আখি খাতুন (৯) এর লাশ।
ডুবুরীদের দলনেতা কামরুজ্জামান সেলিম জানান, আমরা ৩টি শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছি আর ১টি শিশুর লাশ উদ্ধারের চেষ্টা করছি।
কচাকাটা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বিশ্বদেব রায় এর সত্যতা নিশ্চিত করেন।
