রংপুরে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নিহত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলার আসামি দুই পুলিশ সদস্যকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রিমান্ড অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধার আগে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দুই আসামি রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের এএসআই মো. আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্রকে আদালতে তোলে পিবিআই।
এ সময় রংপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এর বিচারক মো. আসাদুজ্জামানের কাছে রিমান্ডের প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। পরে নতুন করে রিমান্ড আবেদন না করায় আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এদিকে, রিমান্ডের মেয়াদপূর্তির আগেই আসামিদের আদালতে উপস্থাপন, আসামি হলেও স্বপদে বহাল থাকা, নতুন করে কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়া, নতুন করে রিমান্ডে না নেওয়ায় পিবিআইয়ের তদন্ত নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে বাদীপক্ষের আইনজীবীরা। সেই সঙ্গে সঠিক বিচার না পাওয়ারও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
কোর্ট ইন্সপেক্টর পৃথিশ কুমার সরকার বলেন, রিমান্ড শেষে আবু সাঈদ হত্যা মামলার দুই আসামিকে আজ আদালতে তোলা হয়েছিল। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার পক্ষে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। আদালত সেই প্রতিবেদন দেখে আসামিদের জেল হাজতে পাঠিয়েছে। নতুন করে পিবিআই রিমান্ড আবেদন করেনি।
বাদীপক্ষের আইনজীবী রায়হানুজ্জামান রায়হান বলেন, আসামিদের উপস্থাপনের দিনে এএসআই আমির আলী ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র আদালতে স্বীকারোক্তি দিতে চেয়েছিল। পিবিআই সেই সময় তাদের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তদন্তকারী সংস্থা রিমান্ডের তৃতীয় দিনেই আসামিকে আদালতে উপস্থাপন করেছে এবং বলেছে আসামিরা অসুস্থ। আদালতে আসামিরা কোনো স্বীকারোক্তি দেয়নি। আমাদের সন্দেহ হচ্ছে, তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্তে অবহেলা ও খামখেয়ালী করেছে। সেই সঙ্গে সঠিক বিচার নিয়ে সন্দেহ হচ্ছে।
