‘দুর্নীতি দমন কমিশনকে রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক প্রভাব মুক্ত করতে হবে। ছাত্র-জনতার আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন যাতে ঘটে তা মাথায় রেখেই কাজটা করতে হবে। এভাবে আমরা কমিশনের কাজটা শুরু করতে চাই।’ কমিশনের দায়িত্ব পাওয়ার পর গতকাল বৃহস্পতিবার ইত্তেফাকের সঙ্গে আলাপকালে এমন আকাঙ্ক্ষার কথা জানিয়েছেন ট্র্যান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বুধবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ছয়টি কমিশন গঠনের কথা জানিয়েছিলেন। প্রধান উপদেষ্টা জানিয়েছেন, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ড. বদিউল আলম মজুমদার, পুলিশ প্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে কাজ করবেন সফর রাজ হোসেন, বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বিচারপতি শাহ আবু নাঈম মমিনুর রহমান, দুর্নীতি দমন সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ড. ইফতেখারুজ্জামান, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরী, সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে ড. শাহদীন মালিক দায়িত্ব পালন করবেন।
এসব কমিশনের অন্য সদস্যদের নাম কমিশন প্রধানদের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করা হবে। কমিশনগুলোর আলোচনা ও পরামর্শ সভায় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, ছাত্র-শ্রমিক-জনতা আন্দোলনের প্রতিনিধি, নাগরিক সমাজ ও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। পহেলা অক্টোবর থেকে কমিশন কাজ শুরু করবে।
দুর্নীতি দমন সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘আমি যতটুকু বুঝতে পারছি, এই কমিশনের কাজ হবে দুর্নীতি দমন কমিশনকে শক্তিশালী করা বা এটাকে কার্যকর করা। আমার নিজের অভিজ্ঞতা, গবেষণালব্ধ জ্ঞান এবং গুড প্যাকটিস যেগুলো আছে সেগুলোকে বিবেচনায় রেখে বাংলাদেশের প্রেক্ষিত বিবেচনায় নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। ২০০৪ সালে দুর্নীতি দমন কমিশন গঠিত হয়েছে। দুদক নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির যে বিশাল ঘাটতি তা বিবেচনায় নিয়ে কাজ করতে হবে।’
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘বাংলাদেশের যে আমলাতান্ত্রিক প্রেক্ষিত সেটি বিবেচনায় রেখে এবং ছাত্র-জনতার আন্দোলনের যে মূলমন্ত্র রাষ্ট্র সংস্কার, সেটিও বিবেচনায় রাখতে হবে। এসবের পাশাপাশি কমিশনে যাদের সদস্য করা হবে তাদের সঙ্গে আলোচনা করে আমরা একটি সুপারিশ করার চেষ্টা করব। আমাদের মূল কাজটি হবে যে আইনে দুদক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এর মধ্যে কোনো দুর্বলতা রয়েছে কি না, এর সঙ্গে অন্যান্য যে আইন রয়েছে সেগুলোকে বিবেচনায় নেওয়া এবং দুদকের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা, দলীয় প্রভাবের কারণে দুদক এতদিন অকার্যকর থেকেছে সেগুলোকে বিবেচনায় রাখা।’
