ছাত্র আন্দোলনে গুলিবিদ্ধের ৪০ দিন পর মারা গেলেন সাব্বির 

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ২২:০১

কুমিল্লার দেবিদ্বারে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হওয়ার ৪০ দিন পর নবম শ্রেণির ছাত্র আমিনুল ইসলাম সাব্বির মারা গেছেন। 

শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে নয়টার দিকে দেবিদ্বার পৌরসভার ভিংলাবাড়ি এলাকায় নানার বাড়িতে তার মৃত্যু হয়। 

জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সরকার পতনের পর সারাদেশের মতো দেবিদ্বার উপজেলায়ও ছাত্র-জনতা উল্লাসে মেতে উঠে, চলে আনন্দ মিছিল। একপর্যায়ে কিছু দুষ্কৃতকারী থানায় আক্রমণ করে পুড়িয়ে দেয় পুলিশের পিকআপ ভ্যান। এ সময় থানায় থাকা পুলিশের ওপর আক্রমণ করলে পুলিশ গুলি চালালে গুলিবিদ্ধ হয় স্থানীয় সাংবাদিকসহ প্রায় ৬০ জন ছাত্র-জনতা।

ওই সময় সাব্বির মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। ওইখানে প্রায় এক মাসেরও বেশি সময় চিকিৎসা শেষে গত ১৩ সেপ্টেম্বর সাব্বির বাড়িতে ফেরেন। কিন্তু বাড়ি ফিরার একদিন পরই শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি।

সাব্বিরের মা রিনা বেগম বলেন, দীর্ঘ প্রায় এক মাসের বেশি সময় চিকিৎসা শেষে গতকাল ছেলেকে নিয়ে বাড়ি আসি। কিন্তু সকালে আমার ছেলেটি মারা গেল। দুই বছর আগে সাব্বিরের বাবা মারা যাওয়ায় তার আর লেখাপড়া করা হয়নি। সিএনজি চালিয়ে সংসারের হাল ধরে।

এদিকে সাব্বির গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হওয়ার ঘটনায় তার মামা নাজমুল হক বাদী হয়ে দেবিদ্বারের সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদ ও সাবেক এমপি রাজি মোহাম্মদ ফখরুলসহ ৯৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১৫০ জনকে আসামি করে গত ৮ সেপ্টেম্বর আদালতে মামলার আবেদন করেন। আদালতের আদেশে শনিবার দেবিদ্বার থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে বলে থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন।    

 

ইত্তেফাক/এসএএস