৬৫ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার পর থেকে একের পর এক নিম্নচাপের কারণে সাগর থেকে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে জেলেদের।
সাগর উত্তল থাকায় ৩ নম্বর সতর্ক সংকেতর কারণে আবারো সাগরে মাছ শিকার করতে গিয়ে ফিরে এসেছে জেলেরা। একদিকে সাগরে নিম্নচাপ অন্যদিকে সমুদ্র থেকে খালি হাতে ফিরে আসায় লোকসানের চিন্তা মাথায় নিয়ে দিন কাটাচ্ছে মৎস্য আড়তদার, জেলে এবং ট্রলার মালিকরা।
ট্রলার মালিক মনির হোসেন বলেন, নিম্নচাপের কারণে সাগরে গিয়ে মাছ ধরতে না পেরে খালি হাতে ফিরতে হয়েছে জেলেদের। ৫ লাখ টাকার বাজার নিয়ে সাগরে গিয়ে ৩ দিন পরে চলে আসতে হয়েছে জেলেদের। জেলেরা মাছ না পেয়ে খালি হাতে ফিরে আসায় অনেক টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে আমাকে ।
এফবি মায়ের দোয়া ট্রলারের মাঝি সগীর হোসেন বলেন, ট্রলার মালিকের লোকসান কথা চিন্তা করে গভীর সমুদ্রে থাকতে চেয়েছিলেম। নিম্নচাপের প্রভাবে সাগর অতিরিক্ত উত্তাল হওয়ায় ট্রলার মালিকের জাল-দড়ির কথা ভেবে আবার ট্রলার নিয়ে সাগর থেকে তীরে ফিরেছি। আবহাওয়া মাছ শিকারের জন্য জেলেদের অনুকূলে যতদিন না আসবে ততদিন উপকূলেই থাকতে হবে । একের পর এক এরকম চলতে থাকলে ট্রলার মালিক এবং জেলেরা নিঃস্ব হয়ে পরবে ।
বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সহ-সভাপতি মো. আবুল হোসেন ফরাজী বলেন, সম্প্রতি ৬৫ দিনের মৎস্য অবরোধ শেষেই সাগরে শুরু হয়েছে নিম্নচাপ। আর এর কারণে সাগর থেকে খালি ট্রলার নিয়ে ঘাটে ফিরছে প্রায় কয়েক শতাধিক জেলে। ফিরে আসা এই ট্রলারগুলোর প্রত্যেকটিতে কয়েক লাখ টাকার বাজার করে সাগরে পাঠাতে হয়। এই নিন্মচাপে আমারও একটি ট্রলার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে বড় রকমের ক্ষতির মধ্যে ট্রলার মালিকরা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছে।
বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, প্রতি ট্রিপে ট্রলার মালিকদের এভাবে লোকসান গুনতে হলে অচিরেই তারা নিঃস্ব হয়ে যাবে। তিনি আরো বলেন, গত ১৪ সেপ্টেম্বর নিখোঁজ হওয়া ২০ টলার সহ প্রায় ৩ শতাধিক জেলের সন্ধান এখনো মেলেনি। সমিতির পক্ষ থেকে জেলেদের সন্ধানে ৫-৬ টি টলার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নিম্নচাপ ভালো হলে নিখোঁজ ট্রলারগুলো খোঁজ নেয়ার জন্য সাগরে পাঠানো হবে। সাগর উত্তল থাকায় প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নিখোঁজ টলার ও জেলেরা সমুদ্রে ডুবে যেতে পারে।
পাথরঘাটা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু গতকাল রবিবার সাংবাদিকদের জানান, আমরা জানতে পেরেছি নিম্নচাপের কারণে সমুদ্রে তিন নম্বর সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে। তাই উপকূলে জেলেদের নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে। তাছাড়া অবরোধ শেষ হওয়ার পরে সাগরে জেলেদের জালে প্রচুর পরিমাণ ইলিশ ধরা পরবে বলে ধারনা করেছি। এবছর প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে লোকসান গুনছে ট্রলার মালিক ও জেলেরা। জেলেদের সর্বাধিক সহযোগিতা ও সার্বিক বিষয়ে খোঁজ রাখা হচ্ছে পাথরঘাটার মৎস্য বিভাগের।
কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের পাথরঘাটা স্টেশনের লেফটেন্যান্ট মোহাম্মদ শাকিব মেহেবুব জানান, আমরা যে তথ্য পেয়েছি তাতে বেশ কিছু ট্রলার এবং জেলে নিখোঁজ রয়েছে। কয়েকজন জলের খোঁজ পেয়েছি। তাছাড়া সমুদ্রে নৌ বাহিনীর কয়েকটি জাহাজ আছে, তারা নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে কাজ করে যাচ্ছে। আশা করছি, জেলেদের উদ্ধারে সক্ষম হবে।
