ছিনতাই হওয়া ভ্যান পুলিশের সহায়তায় ফিরে পেল জিহাদ, থামল অসুস্থ মা-বাবার কান্না

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ২২:১৫

চুয়াডাঙ্গা সদরের দীননাথপুরের শিশু জিহাদের ছিনতাই হওয়া ভ্যানটি উদ্ধার করেছে সদর থানা পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত বকুল শেখ (২৪) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত বকুল শেখ কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালি থানাধীন উত্তর চাঁদপুর গ্রামের সুরুজ আলীর ছেলে।

বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান চুয়াডাঙ্গা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আনিসুজ্জামান।

এর আগে, বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় যাত্রীবেশে জিহাদের ভ্যানটি কৌশলে ছিনিয়ে নেয় গ্রেপ্তার হওয়া বকুল। ঋণের টাকায় কেনা একমাত্র উপার্জনের সম্বল ব্যাটারিচালিত ভ্যানটি হারিয়ে পরিবারটি দিশেহারা হয়ে পড়ে। জিহাদের বৃদ্ধ ও অসুস্থ বাবা-মায়ের কান্না থামছিল না।

বুধবার বিকেলে ভ্যান উদ্ধারের পর সদর থানা চত্বরে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন জিহাদের বাবা তাহাজ্জেল মিয়া। তিনি বলেন, 'আমি কখনো ভাবিনি চুরি হওয়া ভ্যানটি ফিরে পাবো। পুলিশ ভ্যানটি উদ্ধার করে দিয়েছে। এতে আমি অনেক খুশি।'

তিনি আরও জানান, তিনি অ্যাজমা রোগী এবং বয়সের কারণে ভ্যান চালাতে পারেন না। তার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ হয়ে বিছানাগত। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ছেলে জিহাদের জন্য ঋণ তুলে ভ্যানটি কিনে দিয়েছিলেন। ভ্যান ছিনতাই হওয়ার পর পরিবারের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় হয়ে পড়ে, এমনকি বাড়িতে খাবারও ফুরিয়ে যায়। শুক্রবার জুমার নামাজের পর মসজিদ থেকে পাওয়া খিচুড়ি খেয়েই দিন কাটাতে হয়েছিল। সংবাদ প্রচারের পর কিছু মানবিক ব্যক্তি পরিবারটির পাশে দাঁড়ান।

পুলিশ জানায়, বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভ্যান ছিনতাইয়ের খবর প্রকাশিত হলে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার খন্দকার গোলাম মওলার নজরে আসে। এরপর তিনি ভ্যান উদ্ধারের জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামানের নির্দেশনায় সদর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) আলী হোসেন এবং উপ-পরিদর্শক (এসআই) হাসানুজ্জামানের নেতৃত্বে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। অবশেষে, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় টানা ১৪ দিন পর কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালি থেকে বকুল শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে বকুল শেখ ভ্যান ছিনতাইয়ের কথা স্বীকার করে এবং পুলিশ তার হেফাজত থেকে ভ্যানটি উদ্ধার করে।

এসআই হাসানুজ্জামান জানান, উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয় এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বকুল শেখের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর কুষ্টিয়ায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে, তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ভ্যানটি উদ্ধার করা হয়। ঘটনাতে জড়িত অন্যান্যদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান বলেন, 'সংবাদটি দেখে বিষয়টি আমার নজরে আসে এবং এরপর ভ্যানটি উদ্ধারে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়। আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে ভ্যানটি উদ্ধার করতে পেরেছি এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছি।'

ইত্তেফাক/টিএইচ