বর্তমানে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩০ বছর। আর অবসরে যাওয়ার বয়সসীমা ৫৯ বছর। সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা অবিলম্বে ৩৫ বছর করার দাবিতে এতদিন আন্দোলন করছিলেন একদল চাকরিপ্রত্যাশী। এবার চাকরিতে বয়স বাড়ানোর দাবির চিঠি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর ও অবসরের বয়স ৬৫ বছর করার জন্য প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন যে দাবি করেছিল, সেটি সরকারি পর্যায়েও গুরুত্ব পেয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। শুধু এ-সংক্রান্ত যে প্রস্তাব জমা পড়েছিল, সেটিই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা বাড়ানোর খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তুমুল আলোচনা সমালোচনা হচ্ছে, লেখালেখি হচ্ছে বিভিন্ন গ্রুপে। কেউ পক্ষ বলছে, কেউ বলছেন বিপক্ষে। কেউ কেউ বিয়ে নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, 'এভাবে কি একবার ভেবে দেখেছেন? ৩৫ বছর পর্যন্ত চাকরির পড়া পড়বেন। ৩৬ এ গিয়ে পরীক্ষায় টিকলেন, ৩৭ /৩৮ বছরে গিয়ে জয়েন করলেন। সবই মানলাম।
৩৮ বছর থেকে ৪০/৪২ বছর পর্যন্ত নিজেকে গুছাবেন,বাড়ি ঘর করবেন। বিয়ের জন্য প্রস্তুতি নিবেন। ৪৩ বছরে গিয়ে বিয়ের জন্য পাত্রী খুঁজছেন, কিন্তু আপনাকে কেউ পাত্র হিসেবে মেনে নিতে পারছে না। কারণ আপনার মাথায় একটা পশম পর্যন্ত নেই, দাঁড়ি মুছ পেকে পাত্রীর দাদার মতো হয়ে গেছে।
দিন শেষে বাবা,মা হারাবেন। পাবেন না নিজের জীবন সঙ্গিনীর দেখা। জ্বলবে না বংশের প্রদীপ। ৫০/৫৫ তে আপনিও চলে যেতে পারেন অন্ধকারে।
এদিকে আপনার সমবয়সী বেসরকারী চাকরিজীবী বন্ধুর ৪০+ বয়সে তিনটা বাচ্চা কাচ্চা,সবাই আবার বিয়ের বয়সী হয়ে গেছে। তখন আমি/ আপনি নিজেকে শুধু সরকারী চাকরিজীবী বলে পরিচয় দেওয়া ছাড়া আর কোন পরিচয় থাকবে না। কারণ আপনি তো unmarried।
মেহেদী হাসান লিখেছেন, এখন কি তাহলে বিয়ের বয়স ৩৬?
মাসুদ হাসান লিখেছেন, এখন নিজের পায়ে দাঁড়াইতে ২৮ লাগে
পরের বছর থেকে ৩৬ লাগবে। বেশিরভাগই বিয়ে করে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর পরে, তাই বিয়ের নরমাল বয়স হবে ৩৬!
আরজুমান নামে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, আমার মতে, চাকরির বয়স বাড়ানো মানেই বিয়ের বয়স বাড়ানো। ৩৫ বছরে চাকরি ৩৬ বছরে বিয়ে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন (অফিসিয়াল গ্রুপে) একজন লিখেছেন, সরকারি চাকরির আবেদনের বয়সসীমা ৩৫ বছর করার সুপারিশ সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য। আমরা অধিকাংশ ছাত্রছাত্রী ৩৫ চাই না।
আর ৩৫ বছরে চাকরি এক্সাম দিয়ে ৩৭ বছরে নিয়োগ হয়ে,৩৮ বছরে ট্রেনিং সম্পন্ন করার পর ৩৯ বছর থেকে দেশকে সেবা দেওয়ার মতো উদ্যম, স্পিরিট, কোনটাই থাকবে না। যেখানে সরকার সবক্ষেত্রে তরুণদের অংশগ্রহণকে অগ্রাধিকার দিয়ে একটা টেকসই বাংলাদেশ করার স্বপ্ন দেখছে, এখানে ৩৫ করার কোনো যৌক্তিকতাই নাই।
তার পোস্টে আব্দুর রহিম নামে একজন কমেন্ট করেছেন, আপনাকে কে বলছে ৩৫ বছরে চাকরি নিতে,আপনি ২৫ বছরে চাকরি নিয়ে পুরো উদ্যমে সেবা দেন মানা করছে কে?? আপনার মতো তো সবাই পন্ডিত না।
সেখানে আহমেদ শরীফ নামে একজন লিখেন, বয়স নিয়ে কথা নাই বাট ৬৫ বাতিল করতে হবে! চাকরির সিট খালি না হলে নিয়োগ হবে কীভাবে! চাকরির মেয়াদ ৫২-৫৫ করা হোক।
বিয়ে নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে একজন লিখেছেন, চাকরির বয়স নাকি ৩৫ বছর পর্যন্ত বাড়ানো হবে? হইছে আমার আর আশা নাই।
... মনে হয় না তোমাকে আর বিয়ে করা হবে। চাকরি পেতে পেতেই তো ৩২ পার হয়ে যাবে। তখন তুমি হয়ে যাবে ৩০ বছরের বুড়ি। আমাদের এত বছরের সম্পর্ক কি তবে শেষ হয়ে যাবে? কত আশা ছিল আমাদের...
হে উপরওয়ালা কৃপা করুন আমাদের উপর।
চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা স্থায়ীভাবে ৩৫ চাই গ্রুপে একজন লিখেছেন, আলহামদুলিল্লাহ আলহামদুলিল্লাহ।অবশেষে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর হয়ে হচ্ছে!!!
এই গ্রুপের কেউ কেউ দ্রুত গ্যাজেট প্রকাশের দাবি করেছে। চাকরিপ্রত্যাশী একজন লিখেছেন, চাকুরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ এর নিচে হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি চাকরিপ্রত্যাশীদের।
