দহগ্রাম-আঙ্গরপোতায় ঢুকছে তিস্তার পানি

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১৬:৫৮

টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি গেইট খুলে দিয়েছে ব্যারেজ কর্তৃপক্ষ। দেশের বহুল আলোচিত দহগ্রাম-আঙ্গরপোতাসহ গুচ্ছ গ্রামে তিস্তা নদীর পানি ঢুকে পড়েছে।

শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় তিস্তার পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ সেন্টিমিটার। যা বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার (স্বাভাবিক ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার) নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

ছবি: ইত্তেফাক

পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম-আঙ্গরপোতার কাদেরের চর, গুচ্ছ গ্রামসহ তিস্তার চরাঞ্চলের ঘরবাড়ি ও ফসলি জমিতে পানি উঠতে শুরু করেছে। এতে নদীর তীরবর্তী ও চরাঞ্চলে বসবাসরত মানুষ বন্যা ও নদীভাঙ্গনের আশঙ্কা করছেন। 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে, গত ২৪ ঘণ্টায় লালমনিরহাটে ৭২ মি.মি. বৃষ্টিপাত হয়েছে। আগামী ২-১ দিন বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। তিস্তার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়েছে। এতে চরের বিভিন্ন ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। চরাঞ্চলে থাকা সাধারণ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়ায় স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়াও আশঙ্কা করা হচ্ছে তিস্তার বাম ও ডান তীরের নিম্নাঞ্চলে সাময়িক বন্যা দেখা দিতে পারে।

পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম ইউনিয়নের বাসিন্দা নুরুজ্জামান, বাবু ও এনারুল ইসলাম বলেন, তিস্তার ভয়াল গ্রাস থেকে মুক্ত করতে গত ১৫ বছরে অনেকেই এসে প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেছে। কিন্তু বাস্তবায়ন হয়নি কিছুই। এখন তিস্তায় পানি বেড়ে আমাদের এলাকায় প্রবেশ করেছে। বাড়ি-ঘর, রাস্তায় পানি থাকায় চলাফেরাসহ নানা সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। 
 
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী শুনিল কুমার রায় জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশের সব প্রধান নদ-নদীর পানি সমতল বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে রংপুর বিভাগের তিস্তা ও ধরলা নদীর পানি গত দুইদিনে সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে।

ইত্তেফাক/এসএএস