চিতলমারীতে স্লুইসগেট এখন মৎস্যচাষিদের অভিশাপ

  • পানির নিচে প্রায় ৮ হাজার চিংড়ি ঘের
আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১৬:২৮

বাগেরহাটের চিতলমারীতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্লুইসগেট এখন মৎস্যচাষিদের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুই দফায় অতিবৃষ্টি ও জোয়ারের পানির চাপে স্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে স্লুইসগেটের জন্য। এতে পানির নিচে তলিয়ে গেছে প্রায় ৮ হাজার চিংড়ি ঘের। ভাটার সময় বের হতে পারছে না জমে থাকা পানি।

সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, চিতলমারীতে ৩৬/১ পোল্ডারের আওতায় সদর ইউনিয়নে চিত্রা উপকূলীয় এলাকায় ৯টি স্লুইসগেট রয়েছে। বেশিরভাগ গেট পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক নির্মিত হয়েছিলো ১৯৭০ সালের দিকে বিলে লবণ ও জোয়ারের পানি আটকানোর জন্য। কিন্তু দীর্ঘদিন গেটের মুখে পলি ও কচুরিপানা জমার কারণে খাল ও বিল থেকে পানি অপসারণ হচ্ছে না এখন। যার কারণে সামান্য বৃষ্টিতে ও জোয়ারের পানির চাপে হুমকির মুখে থাকে চিংড়ি ঘের।

ইউপি সদস্য সুলতান শেখ জানান, গেটগুলো রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়োগ করা লোক থাকত। কিন্তু বেশকিছু দিন তাদের দেখা যাচ্ছে না।

পারডুমুরিয়া গ্রামের চিংড়ি চাষি সুমন্ত ভক্ত জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড কচুরিপানা পরিষ্কার করার জন্য কোনো পদক্ষেপ নেয় না। জনপ্রতিনিধিদের আর্থিক অনুদানে ও স্বেচ্ছাশ্রমের ভিওিতে কচুরিপানা পরিষ্কার করতে হয়।

মৎস্য বিশেষজ্ঞরা জানান, দুই দফায় অতিবৃষ্টি ও জোয়ারের পানির চাপে চাষিরা সর্বস্বান্ত হয়ে গেছে।৯৭ ভাগ চিংড়ি ঘের এখনও পানির নিচে। আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হবে চাষিরা।

পারডুমুরিয়ার চিংড়ি চাষি উওম বাড়ৈ, মোস্তাক শেখ এবং কালশিরার গৌতম বিশ্বাস ও সুযশ বিশ্বাস জানান, আমরা কেউ ব্যাংক, এনজিও কেউ মহাজনের কাছ থেকে লোন নিয়ে চিংড়ি চাষ করেছি। এখন ঘের তলিয়ে মাছ বের হয়ে গেছে। লোনের টাকা কীভাবে শোধ করব বুঝতে পারছি না।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান জানান, গেটর মুখে কচুরিপানা জমা ও পলি ভরাটের কারণে খাল-বিল থেকে ভাটায় পানি নদীতে নামতে পারছে না। এর জন্য সৃষ্টি হচ্ছে স্থায়ী জলাবদ্ধতা। বিলের ধারের প্রায় ৮ হাজার চিংড়ি ঘের পানির নিচে। চাষিরা ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়বে বলে তিনি মনে করেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু মোহাম্মদ আল বিরুনী জানান, কচুরিপানা পরিষ্কার করার জন্য বর্তমানে কোনো বাজেট নেই। বাজেট আসলে পরিষ্কার করার ব্যবস্থা করা হবে।

ইত্তেফাক/এসএএস