কোটালীপাড়ায় সরকারি জায়গা দখলের হিড়িক

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২৪, ১২:৩৯

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় সরকারি জায়গা অবৈধভাবে দখল করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ভবন নির্মাণের হিড়িক পড়েছে। কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে গড়ে ওঠা এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য সরকার লাখ লাখ টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। অপরদিকে অদৃশ্য কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

সরজমিনে অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার সদর, ঘাঘর বাজার ও এর আশপাশের এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে ২শ ৭৮টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এছাড়াও ভাঙ্গারহাটের চারপাশে ৭০টি, কোটালীপাড়া হাসপাতাল রোডে ২০টি, রাধাগঞ্জ বাজারে ৫০টি, রাধাগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে ১৪টি, মতিরমোড় থেকে উনশিয়া ঘোষবাড়ি পর্যন্ত ১৫টি, পিড়াবাড়ি বাজারে ৩০টি, শুয়াগ্রাম বাজারে ২০টি, কুশলা বাজারে ২০টি, ধারাবাশাইল বাজারে ২৫টি, ওয়াবদার হাট বাজারে ২০টি, রামশীল বাজারে ১০টি, রামশীল ব্রিজের দু’পাশে ১০টি, ত্রিমূখী বাজারে ১০টি, বান্ধাবাড়ি বাজারে ১৫টি, তরুর বাজারে ৩০টি, কালিগঞ্জ বাজারে ৩৫টি, চৌধুরীর হাটে ১০টি, ধারাবাশাইল থেকে কান্দি সড়কের পাশে ২০টি, তারাশী থেকে টুপরিয়া বাজার সড়কের পাশে ৪০টি, কুশলা বাজার থেকে মান্দ্রা পর্যন্ত সড়কের পাশে ৩৫টি, শিকিরবাজার থেকে বুজুর্গকোনা সড়কের পাশে ২৫টি অবৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে।

অপরদিকে ঘাঘর নদীসহ উপজেলার বিভিন্ন খাল দখল করে প্রভাবশালী মহল বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা গড়ে তুলেছেন।

ঘাঘর বাজারে আমিনুল ইসলাম হাওলাদার, সামসুদ্দিন মিয়া, কাঠ ব্যবসায়ী নুরুজ্জামানসহ একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে সরকারি জায়গা দখল করে পাকা ভবন নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে। অধিকাংশ দখলদার সরকারি জায়গা দখলের বিষয়ে কথা বলতে রাজি হয়নি। 

তবে কাঠ ব্যবসায়ী নুরুজ্জামান সরকারি জায়গা দখলের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ঘাঘর নদীর ভেতরেও আমার দলিলের জায়গা রয়েছে। সেই জায়গায় আমি বহুতল ভবন নির্মাণ করেছি। 

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রতীক দত্ত বলেন, দ্রুতই এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য অভিযান পরিচালনা করা হবে।

ইত্তেফাক/এসএএস