ব্যাংকের পর আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সুদ হারও বাজারভিত্তিক

এখন থেকে এনবিএফআইগুলো তাদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের ঋণ, লিজ বা বিনিয়োগের সুদহার নিজেরা নির্ধারণ করতে পারবে। একইভাবে পারবে আমানতের সুদহার নির্ধারণ করতে

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২৪, ০৬:০০

ব্যাংকের পর এবার ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (এনবিএফআই) ঋণ ও আমানতের সুদহার বাজারের ওপর ছেড়ে দিল বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে এখন থেকে এনবিএফআইগুলো তাদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের ঋণ, লিজ বা বিনিয়োগের সুদহার নির্ধারণ করতে পারবে। একইভাবে পারবে আমানতের সুদহার নির্ধারণ করতে। এতদিন এ খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণের সুদহার নির্ধারণ হতো 'সিক্স মানথস মুভিং এভারেজ রেট অব ট্রেজারি বিল' বা স্মার্ট পদ্ধতি অনুযায়ী। 

গতকাল রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ এক সার্কুলার জারির মাধ্যমে এনবিএফআইগুলোকে বাজারভিত্তিক সুদহার নির্ধারণের নির্দেশনা দিয়েছে। 

২০২৩ সালের জুন মাস থেকে স্মার্ট পদ্ধতি অনুযায়ী ব্যাংক ও এনবিএফআই উভয় খাতের প্রতিষ্ঠানই ঋণের সুদহার নির্ধারণ করে আসছিল। উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৯ মে থেকে ব্যাংক ঋণের সুদহার নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্মার্ট পদ্ধতি অনুসরণ করার নির্দেশনা তুলে নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর থেকে ব্যাংকগুলো নিজেরাই ঋণের সুদহার নির্ধারণ করতে শুরু করে। বর্তমানে ব্যাংক খাতের ঋণের সুদহার ১৬ শতাংশের আশপাশে রয়েছে। সার্কুলারে বলা হয়, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ঋণের খাতভিত্তিক সুদহার ও আমানতের সুদহার তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করবে। ঝুঁকি বিবেচনায় গ্রাহকভেদে নির্ধারিত সীমার মধ্যে সুদ বা মুনাফার হারে ১ শতাংশ পর্যন্ত তারতম্য করা যাবে। বাজার বহির্ভূত হারে ঋণ ও আমানতের ওপর সুদ দেওয়া যাবে না বলেও শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে সার্কুলারে।

এতে বলা হয়েছে, ঋণ বিতরণের পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে সুদহার বাড়ানো যাবে না। এরপর প্রতি ছয় মাস অন্তর বাজার সুদহারের ভিত্তিতে বিতরণ করা ঋণের সুদহার পুনরায় নির্ধারণ করতে পারবে এনবিএফআইগুলো।

সার্কুলারে আরো বলা হয়, কোনো ঋণ অথবা ঋণের কিস্তি সম্পূর্ণ বা আংশিক মেয়াদোত্তীর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হলে যে সময়ের জন্য মেয়াদোত্তীর্ণ হবে, ঐ মেয়াদোত্তীর্ণ কিস্তির ওপর নিয়মিত সুদহারের অতিরিক্ত সর্বোচ্চ শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ দণ্ড সুদ আরোপ করতে পারবে এনবিএফআই। এনবিএফআইগুলোকে ঘোষিত সুদহারের অতিরিক্ত কোনো সার্ভিস চার্জ আরোপ বা আদায় না করারও নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে দণ্ড সুদ আরোপের ক্ষেত্রে গ্রাহকভিত্তিক পরিচালক পর্ষদের অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বা সরকারের গঠিত প্রণোদনা প্যাকেজ, বিশেষ তহবিল, পুনঃ অর্থায়ন, প্রাক-অর্থায়ন তহবিলের আওতায় প্রদত্ত ঋণের সুদহার নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট তহবিলের জন্য প্রণীত নীতিমালা প্রযোজ্য হবে। ইসলামী শরীয়াহভিত্তিক পরিচালিত ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলো তাদের দেওয়া বিনিয়োগের ক্ষেত্রে উল্লিখিত নির্দেশনা অনুসরণ করে মুনাফা নির্ধারণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। সংশ্লিষ্ট মাসের ৭ তারিখের মধ্যে ঐ মাসের ঘোষিত সুদহার বিবরণী রেশনালাইজড ইনপুটি টেমপ্ল্যাট ব্যবহার করে ওয়েবপোর্টালে আপলোড করার বিষয়টি চলমান থাকবে বলে নির্দেশনায় বলা হয়েছে। এই নির্দেশনার মাধ্যমে ঋণ-আমানতের স্মার্ট রেট সম্পর্কিত আগে জারি করা সার্কুলারগুলোর নির্দেশনা রহিত করা হলো। ফাইন্যান্স কোম্পানি আইন, ২০২৩ এর ৪১(২) (ঘ) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। যা যা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

ইত্তেফাক/এমএএম