ভারতীয় ধনকুবের রতন টাটার মৃত্যুর পর, ৩০ লাখ কোটি রুপি মূল্যমানের ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর উত্তরসূরী কে হবে, এটাই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। রতন টাটার ব্যক্তিগত জীবনে বিয়ে না করার কারণে টাটা সাম্রাজ্যে একটি শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে, যা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা।
বর্তমানে টাটা গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এন চন্দ্রশেখরণ, যিনি ২০১৭ সাল থেকে টাটা সন্সের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেসের (টিসিএস) সিইও ছিলেন এবং কোম্পানির বৈশ্বিক সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।
চন্দ্রশেখরণের শান্ত স্বভাব ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা তাকে ইতিমধ্যেই প্রশংসা এনে দিয়েছে, এবং তিনি কঠিন চ্যালেঞ্জগুলির মধ্যে সাফল্যের সঙ্গে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তবে ভবিষ্যতের নেতৃত্বের ক্ষেত্রে কয়েকজন প্রার্থী নিয়ে আলোচনা চলছে।
নোয়েল টাটা
রতন টাটার সৎভাই নোয়েল টাটা উত্তরসূরি হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। তিনি টাটা গ্রুপের বিভিন্ন অংশের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন এবং বর্তমানে ‘ট্রেন্ট’ নামে খুচরা ব্যবসার সঙ্গে সম্পর্কিত। তার অভিজ্ঞতা ও পরিচিতি তাকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলছে।
লিয়া, মায়া ও নেভিল টাটা
নোয়েল টাটার তিন সন্তান লিয়া, মায়া এবং নেভিলও উত্তরসূরির তালিকায় রয়েছেন।
লিয়া টাটা মাদ্রিদের আইই বিজনেস স্কুল থেকে মার্কেটিংয়ে স্নাতকোত্তর অর্জন করেছেন এবং ২০০৬ সালে টাটা গ্রুপে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি ইন্ডিয়ান হোটেলস কোম্পানি লিমিটেডের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজ করছেন।
মায়া টাটা ‘টাটা ক্যাপিটলে’ বিজনেস অ্যানালিস্ট হিসেবে কাজ করছেন এবং তারও ভবিষ্যতে বড় ভূমিকায় আসার প্রত্যাশা রয়েছে। নেভিল টাটা ট্রেন্টে ক্যারিয়ার শুরু করেছেন এবং খুচরা ব্যবসার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত।
রতন টাটা ১৯৯১ সালে টাটা সন্সের দায়িত্ব নেন এবং তার নেতৃত্বে গ্রুপটি বিশ্বব্যাপী প্রসারিত হয়। ২০১২ সালে চেয়ারম্যান হিসেবে পদ থেকে অবসর নিলেও, তিনি চেয়ারম্যান এমেরিটাস হিসেবে কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন।
টাটা গ্রুপের বৃদ্ধির পাশাপাশি রতন টাটা অসংখ্য জনহিতৈষী কাজেও অবদান রেখেছেন, বিশেষ করে স্বাস্থ্য ও শিক্ষায়। তিনি মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে বুধবার রাতে মারা যান, বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।
রতন টাটার মৃত্যুতে ভারতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং শিল্প-সংস্কৃতির শীর্ষ ব্যক্তিরা শোক প্রকাশ করেছেন। তার অবদানের জন্য তিনি পদ্ম বিভূষণ খেতাব পেয়েছিলেন।

