ভারতের বিহার রাজ্যে ভেজাল মদপানের ফলে কমপক্ষে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় আরও কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।
মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) রাতে সিওয়ান ও সারন জেলার বিভিন্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। উল্লেখ্য, বিহারে গত আট বছর ধরে মদ বিক্রি নিষিদ্ধ রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগীদের মধ্যে অনেকেই ভয়ে আত্মগোপন করেছেন, কারণ ভেজাল মদপানের ঘটনায় অতীতে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, মৃত্যুর সঠিক কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে স্থানীয়রা জোর দিয়ে বলেছেন, এসব মৃত্যুর পেছনে ভেজাল মদই দায়ী।
এই ঘটনার তদন্তে একটি বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) গঠন করা হয়েছে, যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন সারন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাকেশ কুমার। তিনি জানান, মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর ইব্রাহিমপুর এলাকায় দ্রুত একটি দল পাঠানো হয়েছে।
রাকেশ কুমার আরও জানান, এ ঘটনায় দুই ব্যক্তি দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন এবং আরেকজন হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা গেছেন।
এই পরিস্থিতিতে পুলিশ কর্মকর্তা রাকেশ কুমার এলাকাবাসীকে অবৈধ মদ বিক্রি নিয়ে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এক ভুক্তভোগীর বাবা জানান, তাদের পরিবারের তিন সদস্য মদপানের পর অসুস্থ হয়ে পড়েন, যার মধ্যে একজন মারা গেছেন। মদপানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তারা বমি করতে শুরু করেন এবং পরে দৃষ্টিশক্তি হারানোর অভিযোগ করেন।
সিওয়ান জেলায় আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। মৃতদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে, তবে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, কিছু মৃতদেহ চাপের মুখে দ্রুত দাহ করা হয়েছে।
সিওয়ান জেলার পুলিশ সুপার অমিতেশ কুমার জানিয়েছেন, তদন্ত শেষ হওয়ার পর পুরো বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।
২০১৬ সালে মুখ্যমন্ত্রী নিতীশ কুমারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে বিহারে মদ বিক্রয় নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তবে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও রাজ্যে অবৈধভাবে ভেজাল মদের ব্যবসা থেমে নেই, যার ফলে আগেও বহু মানুষের মৃত্যু ঘটেছে।

