নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়ক অবরোধ করে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ 

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২৪, ১৬:৪৮

সাভারের আশুলিয়ায় একটি পোশাক কারখানার এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অপসারণের দাবিতে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন শ্রমিকেরা। এতে বন্ধ রয়েছে যান চলাচল। এ সময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা ওই কর্মকর্তার বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টা থেকে মহাসড়কের পলাশবাড়ি এলাকায় গিল্ডান অ্যাক্টিভওয়্যার বাংলাদেশ লিমিটেডের (গ্যাব) শাহরিয়ার গার্মেন্টসের শ্রমিকেরা সড়ক অবরোধ করেন।

শ্রমিকরা জানায়, কয়েকদিন আগে বেশ কয়েকটি দাবিতে আন্দোলন করেছে এই কারখানার শ্রমিকরা। এ সময় শ্রমিকদের সব দাবি মেনে নিলে কাজে যোগ দেয় শ্রমিকরা। কিছুদিন অতিবাহিত হলে কারখানা কর্তৃপক্ষ অঙ্গীকার ভঙ্গ করে। আগের দাবি গুলোর মধ্যে কারখানার কান্ট্রি ডিরেক্টর তাইজুল ইসলামের অপসারণের বিষয়টি ছিল। কিন্তু প্রথম দিকে তাইজুল ইসলামকে অপসারণ করা হলেও পরে তারা আবার তাকে কারখানায় যোগদান করায়। আজ তাকে আবার অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ করছে শ্রমিকরা।

কারখানাটির অপারেটর আতিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের ভাতা অর্ধেক দিত। বাকি অর্ধেক তারা নিয়ে নিত। বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টে ম্যানেজমেন্ট বা স্টাফ যারা আছেন এখানে সবারই ৪-৫টা করে বাড়ি আছে। একজন সাধারণ স্টাফ এত বড় বড় বাড়ি কীভাবে করতে পারে? আমাদের টাকা আত্মসাৎ করে এই বাড়িগুলো করছে। আমাদের সবার একটাই দাবি, আমরা তাইজুলের চাই না, তাইজুলের পদত্যাগ চাই।’

এদিকে, সড়ক অবরোধের মধ্যে সকাল ১০টার দিকে কারখানা থেকে অদূরে বসুন্ধরা এলাকায় গিয়ে কর্মকর্তা তাইজুলের ৯ তলা বাড়িতে হামলা চালায় প্রায় ২০০-৩০০ মানুষ। সেই কর্মকর্তার দাবি, হামলাকারীদের মধ্যে শ্রমিকেরাও ছিলেন।

তাইজুল বলেন, তারা বাড়িতে এসে বাড়ির গেট ভেঙে ফেলেন। একটি প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেন। ওই সময় আমি বাড়িতে ছিলাম না। ভাঙচুর চালিয়ে তারা ফিরে যান। হামলায় প্রায় ৭-৮ জন আহত হয়েছেন বলেও জানান তাইজুল ইসলাম।

শ্রমিকের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তাইজুল ইসলাম। তিনি জানান, কারখানা কর্তৃপক্ষ যে সিদ্ধান্ত নেন, তিনি মেনে নেবেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শিল্পপুলিশ-১-এর এএসপি মহিউদ্দিন মিরাজ গণমাধ্যমকে বলেন, শ্রমিকেরা সাড়ে ৮টা থেকে সড়ক অবরোধ করে রেখেছেন। এখনো যান চলাচল বন্ধ। শ্রমিকদের দাবি একজন কর্মকর্তার পদত্যাগ। আমরা শ্রমিকদের বোঝানোর চেষ্টা করছি।

ইত্তেফাক/এসএএস