ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ডিবি পরিচয়ে আইনজীবীকে অপহরণের চেষ্টা

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২৪, ২১:১৯

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভুয়া ডিবি পরিচয়ে লোকমান হোসেন (৪৪) নামের এক আইনজীবীকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। 

রোববার (২০ অক্টোবর) রাত ৯টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নাটাই উত্তর ইউনিয়নের ভাটপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় গ্রামবাসী তিন যুবককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। সোমবার দুপুরে আইনজীবী লোকমান হোসেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানায় এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। 

মামলায় আসামিরা হলেন, আশিক (২৫), সফিক (২৬), নাজিবুর রহমান সানি (২৭), খান জাহান আলী রমজান, প্রমোদ বর্মা (৪৫), দ্বীন ইসলাম (২৫), শাওনসহ (২৮) অজ্ঞাত আরও একজন। এর মধ্যে আশিক, সফিক ও নাজিবুর রহমান সানিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ।  

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার সাব ইন্সপেক্টর (এসআই) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রেজাউল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

মামলার এজাহার ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, রোববার রাত ৯টার দিকে সদর উপজেলার নাটাই উত্তর ইউনিয়নের আইনজীবী লোকমান হোসেনের বাড়িতে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে সাতজন ব্যক্তি প্রবেশ করেন। তারা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আসামি হিসেবে লোকমান হোসেনকে নিতে এসেছেন বলে জানান। পরিচয় ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কাগজ দেখাতে বললে একপর্যায়ে জোরপূর্বক ভুক্তভোগীকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন তারা। 

এ সময় চিৎকার ও চেঁচামেচি করলে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে আসলে পালিয়ে যাওয়ার সময় তিন ব্যক্তিকে আটক করা হয়। বাকি চারজন ব্যক্তি পালিয়ে যায়। 

স্থানীয়রা আটককৃতদের জিজ্ঞেস করলে তারা জানায় লোকমান হোসেনের আপন ছোট ভাই খান জাহান আলী রমজান তাদের টাকা দিয়ে ভাড়া করে অপহরণ করার জন্য পাঠিয়েছে। পরে পুলিশকে খবর দিলে স্থানীয়রা আটকৃত ভুয়া ডিবি পরিচয় দানকারী তিন ব্যক্তিকে পুলিশে কাছে সোপর্দ করে ও তাদের ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাস জব্দ করে। 

মামলার বাদী আইনজীবী লোকমান হোসেন বলেন, আমার আপন ছোট ভাই খান জাহান আলী রমজানের সঙ্গে পারিবারিকভাবে জায়গা-সম্পদ নিয়ে ঝামেলা চলছে। তবে সেই ঝামেলায় টিকতে না পেরে রিহ্যাব সেন্টারের কিছু লোকজনদের ভাড়া করে ডিবি সাজিয়ে পাঠিয়েছে আমাকে অপহরণ করে নিয়ে যেতে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার সাব ইন্সপেক্টর (এসআই) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, ডিবি পরিচয়ে আটক তিন যুবককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাছাড়া মামলায় উল্লেখিত ও জব্দকৃত মাইক্রোবাসটি ভাটপাড়া এলাকার স্থানীয় মেম্বার ইকবাল হোসেনের জিম্মায় রাখা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

ইত্তেফাক/এসএএস