মানিকগঞ্জের যমুনা নদীর দুর্গম আলোকদিয়া চরের শুকুলিয়া এলাকায় চরমপন্থীদের ভয়ে বাড়ি-ঘর ছাড়ছে এলাকার মানুষ। ২৫-৩০ জনের সশস্ত্র একটি গ্রুপ প্রায় প্রতিদিনই হানা দিচ্ছে চর এলাকায়। চাঁদা না দিলে দেয়া হচ্ছে হত্যার হুমকি। ফলে প্রাণনাশের ভয়ে অনেকেই এলাকা ছেড়েছেন। চরজুড়ে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক। ভয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতেও সাহস পাচ্ছে না ভুক্তভোগীরা।
সরেজমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শিবালয় উপজেলার দুর্গম আলোকদিয়া চরের শুকুলিয়া এলাকার ভুক্তভোগীরা।
জানা গেছে, পাঁচ বছর আগে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১৭ জেলার প্রায় ৬ শতাধিক চরমপন্থী তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করে ছিলেন। এরপর থেকে পাবনা, কুষ্টিয়া ও সিরাজগঞ্জ এলাকার চরমপন্থীদের আনাগোনা বন্ধ ছিল। গত ৫ আগস্ট ১৪ দলীয় জোট আওয়ামী লীগ সরকার শেখ হাসিনার পতনের পর থেকেই গ্রুপটি আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে। পাবনা জেলার চরমপন্থী নেতা মো. জুলহাস হোসেনের নেতৃত্বে ২৫-৩০ জনের একটি সশস্ত্র গ্রুপ প্রায় প্রতিদিনই শুকুলিয়া চর এলাকায় হানা দিচ্ছে। তারা প্রথমে ওই চরের মাতবরের কাছে বাড়ি প্রতি ৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। মাতবর দিতে রাজি না হলে তাকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়। এরপর মাতবর তাদের ভয়ে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দিয়েছেন। কিন্তু তারপরও বন্ধ হয়নি জুলুম-অত্যাচার। পুনরায় চাঁদা দাবি করা হয়েছে ৫ লক্ষ টাকা। চাঁদা না দিলে জানে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। এরপরই বাড়ি ঘরে তালা দিয়ে গবাদি পশু ও পরিবার-পরিজন নিয়ে গ্রাম ছাড়ছেন বাসিন্দারা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, উপজেলার তেওতা ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের আলোকদিয়া চরের শুকুলিয়া এলাকায় দেড় শতাধিক মানুষের বসবাস। এ এলাকার এক পাশে মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলা। অন্য পাশে পাবনা জেলার আমিনপুর। গত বছর থেকেই এই চরে পাবনার একটি চরমপন্থী গ্রুপ মাঝে মধ্যে হানা দিতো। তারা জেলেদের কাছ থেকে প্রায়ই চাঁদা নিতো। কিন্তু ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর থেকে তারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
ভুক্তভোগী এক নারী জানান, চরমপন্থী দলের সবার হাতেই ছোট বড় আগ্নেয়াস্ত্র থাকে। তারা অস্ত্র দিয়ে ভয় দেখায়। তাদের খাওয়ার জন্য ভাত-খিচুরি রান্না করে দিতে হয়। অনেক সময় সারা দিন থাকেন। আবার সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অবস্থান করেন তারা। খুবই নিরাপত্তাহীনতাই থাকতে হয় আমাদের। তাই বাধ্য হয়ে এক আত্মীয়ের বাসা চলে এসেছি।
অপর এক নারী জানান, আমার ১২ বছরের ছেলেকে তুলে নিতে চেয়েছিল। তাদের ভয়ে পরদিনই এলাকা ও বাড়ি ঘর ছেড়ে পালিয়ে এসে এক আত্মীয়র বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আলোকদিয়া চরের এক জনপ্রতিনিধি জানান, চরে ঢোকার আগে সর্বহারা দলটি ফাঁকা গুলি ছুড়ে এলাকায় আতঙ্ক তৈরি করে। তাদের ভয়ে আশপাশের চরের মানুষও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় দ্রুত প্রশাসনের কাযর্কর পদক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. বশির আহমেদ জানান, পাবনার আমিনপুর এলাকার একটি গ্রুপ চরের মানুষকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মূলত চরের একটি কূল দখলকে কেন্দ্র করে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই গ্রুপের লিডার জুলহাস হোসেনসহ কয়েকজনের নাম জানা গেছে। চরাঞ্চলে পুলিশি টহল বাড়ানোর পাশাপাশি জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
