সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ-ভারত দ্বৈরথ আজ। নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর দশরথ রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে পৌনে ৬টায় গ্রুপ পর্বের ম্যাচে বাংলাদেশ-ভারত মুখোমুখি হবে। অলিখিত ফাইনাল এটি। কারণ গ্রুপ পর্ব হতে সেমিফাইনালে উঠে গেছে ভারত। ঝুলে রয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ।
ভারতের হারাবার কিছু নেই। কোনো দুশ্চিন্তা নেই। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে চায়, নাকি গ্রুপ রানার্সআপ হলে সুবিধে হবে সেটি ভাবছে ভারত। কারণ সেমিফাইনালে নেপালকে পেতে চায় না ভারত। গত সাফে দশরথের এই মাঠেই সেমিফাইনালে স্বাগতিক নেপালের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছিল ভারত। সেটি আর হতে দিতে চায় না তারা। উলটো দিকে বাংলাদেশ ভাবছে তাদের বাঁচামরার লড়াই নিয়ে। ভারতকে যদি হারাতে পারে সেমিফাইনালে উঠে যাবে।
ড্র হলেও বাংলাদেশ ২ পয়েন্ট নিয়ে সেমিফাইনালে উঠে যাবে। বিদায় নিশ্চিত হবে পাকিস্তানের। এমনকি বাংলাদেশ যদি ২-০ গোলে হারেও তবুও গোল গড়ের সমীকরণে সেমিফাইনালে খেলতে পারবে বাংলাদেশ। কারণ ভারত ৫-২ গোলে হারিয়েছে পাকিস্তানকে। অনেকভাবে সুযোগ আছে। তাই বলে ভারত যে, সহজেই ছেড়ে দেবে সেকথা স্পষ্ট করে বলা যাবে না। কারণ গত সাফে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ ৩-০ গোলে জিতেছিল। সেই হারের ঘা শুকায়নি। এবার ভারত সাফে গিয়েছে ট্রফি পুনরুদ্ধার করতে।
ভারত আর বাংলাদেশের নারী ফুটবলের মধ্যে অনেক ব্যবধান। শক্তির দিক থেকে ব্যবধান। শারীরিক সামর্থ্যের দিক থেকে ব্যবধান। স্কিলের দিকে ব্যবধান সর্বোপরি বাংলাদেশের নারী ফুটবলের অবস্থান আর ভারতের নারী ফুটবলের অবস্থানেও অনেক পার্থক্য । ভারত ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে নারী ফুটবলের চর্চা করছে। সেই তুলনায় পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশের শুরুটা এখনো 'এই তো সেদিন'। সাফ নারী ফুটবলে গত ৬টি আসরে বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ খেলেছে ৭টি। এর মধ্যে ১টি জয়, ১টি ড্র বাংলাদেশের ঘরে। বাকি সব ম্যাচে হেরেছে এবং বড় ব্যবধানেই হেরেছে।
ভারতীয় ফুটবলে এখনো যারা খেলেন তারা অনেক বয়সের। বালাদেবী, আশালতা দেবী আজকের ফুটবলার নয়। বলতে গেলে শুরু থেকেই সাফ খেলে আসছেন। সেই তুলনায় অধিনায়ক সাবিনা খাতুন ছাড়া দলের অন্য সব ফুটবলার সানজিদা, কৃষ্ণা, মারিয়া, মনিকা, রূপনা চাকমা, কোয়াতি কিসকুরা সন্তানতুল্য। ভারতীয় কোচ সান্তোস কুমার ২১ দিন আগে দলের দায়িত্ব নিলেও তিনি নেপালে সংবাদ মাধ্যমের কাছে বেশ খোলামেলা ভাবেই জানিয়েছেন তার দলের সব ফুটবলার অনেক অভিজ্ঞ। দলের পুরোনো ফুটবলার।
