রায়পুরে ১০ কি.মি.সড়কের বেহাল দশা, ভোগান্তিতে লক্ষাধিক মানুষ

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২৪, ১৩:৫৩

সড়কজুড়ে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। পিচ ঢালাইয়ের অস্তিত্বই নেই। হেঁটে চলাচল করাও দুরূহ হয়ে পড়েছে। এই চিত্র রায়পুর-লক্ষ্মীপুর উপজেলার মেঘনা উপকূলীয় বেড়িবাঁধ সড়কের। প্রায় ১০ কিলোমিটারের এই জনবহুল সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে হয় চরভৈরবী, হায়দরগঞ্জ, চর আবাবিল, লক্ষ্মীপুর থেকে মোল্লার হাট হয়ে হায়দারগঞ্জ দক্ষিণ, উত্তর চরবংশী ও চর আবাবিল ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষের।

সোমবার (২১ অক্টোবর) হায়দরগঞ্জ ও খাসেরহাট হয়ে লক্ষ্মীপুর ইটেরপুল পর্যন্ত সরেজমিন গিয়ে বেড়িবাঁধ সড়কটির বেহাল চিত্র দেখা গেছে। শুধু এটি নয়, উপজেলার অভ্যন্তরীণ ১৫০টি সড়কের এখন করুণ হাল। সড়কের দুরবস্থার কারণে ১০টি ইউনিয়নের ৪ লক্ষাধিক মানুষ পাঁচ-ছয় বছর ধরে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন।

বিষয়টি স্বীকার করে উপজেলা প্রকৌশলী হারানর রশিদ বলেন, রায়পুর উপজেলার আয়তন ২০১.৩২ কি.মি (৭৭.৭৩ বর্গমাইল)। এলজিইডির আওতাধীন উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে পাকারাস্তা ৬৪ কিমি, আধা-পাকারাস্তা ৫৯ কিমি, কাঁচারাস্তা ৮২৭ কিমি। বেড়িবাঁধ ৯৬.৫ কিমি সড়ক রয়েছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ১৫০ সড়কে গর্ত হয়ে এখন বেহাল দশা। এ সড়কগুলো প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার। গেলো বর্ষা মৌসুমে কিছু সড়কে ইট বিছিয়ে যান চলাচলের জন্য গর্ত ভরাট করা হয়। কিন্তু সেগুলো বেশিদিন টেকেনি। কিছু সড়কের কাজ চলমান রয়েছে আবার কিছু প্রক্রিয়াধীন আছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে লক্ষ্মীপুর এলজিইডির প্রকৌশলী বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘দরপত্র হওয়ার পর কাজগুলো দুই থেকে তিনজন ঠিকাদারের হাতবদল হয়। বেচাকেনা হতে হতে দরপত্রের টাকার অঙ্ক অর্ধেকে চলে আসে। এতে কাজের মান ঠিক থাকে না।’

দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু ছালেহ মো. ‍মিন্টু ফরায়েজী বলেন, ‘রায়পুর-চরভৈরবী-লক্ষ্মীপুরসহ ৪টি ইউনিয়নে একমাত্র বেড়িবাঁধ সড়কটির খাসেরহাট থেকে লক্ষ্মীপুর অংশ খুবই খারাপ। সড়কের পিচঢালাই উঠে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য গর্তের। পথ চলতে গিয়ে প্রতিদিনই কেউ না কেউ দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।’

সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন হাওলাদার বলেন, ‘দীর্ঘদিন যাবৎ বেড়ি রাস্তাটি সংস্কার না করায় চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় জনগণ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। ১০ কি. মি. বেড়ি রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার না হলে ভোগান্তি আরও চরমে পৌঁছাবে।’

ইত্তেফাক/এএইচপি