ববির দুই বাস আটকে দিলো বিএম কলেজ শিক্ষার্থীরা

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২৪, ১৫:৪৭

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) ও সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ শিক্ষার্থীদের মধ্যে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বাস মেরামতের টাকা পরিশোধ না করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি বাস আটকে রেখেছে বিএম কলেজের শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে আন্ধারমানিক ও নয়াভাঙ্গানী নামের বাসগুলোকে আটকে কলেজের মহাত্মা অশ্বিনী কুমার ছাত্রাবাস প্রাঙ্গণে রাখে শিক্ষার্থীরা।

দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে আটক বাসগুলো মুক্ত করতে চেষ্টা করছে দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ, শিক্ষার্থী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এদিকে বাস আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে যেন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয় সেদিকে কঠোর নজর রাখছে পুলিশ।

বিএম কলেজ শিক্ষার্থীরা জানান, গত ৩ সেপ্টেম্বর রাতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ও বিএম কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তুচ্ছ ঘটনা কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে বিএম কলেজের ৪টি বাস ভাঙচুর করে ববি শিক্ষার্থীরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ প্রশাসনের সমঝোতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এ সময় যার যা ক্ষতি হয়েছে তা জরিমানা দেওয়ার কথা থাকলেও বিএম কলেজের যা ক্ষতি হয়েছে তা এখনও দেয়নি ববি। এ সমস্যা  সমাধানে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হলেও জরিমানার বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ফলে বাধ্য হয়ে ২টি বাস আটকে রেখেছেন তারা।

বরিশাল সরকারি বিএম কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. তাজুল ইসলাম জানান, সকাল ৯টার দিকে খবর আসে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি বাস শিক্ষার্থীরা আটকে রেখেছে। মূলত যে বাসগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ভেঙেছিল সেগুলো মেরামতের ব্যবস্থা না করায় ক্ষোভে এমনটা হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। 
গত ৩ সেপ্টেম্বর দুই পক্ষের সংঘর্ষে বরিশাল বিএম কলেজের ৫ লাখ ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও জানান কলেজ অধ্যক্ষ।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রাহাত হোসেন ফয়সাল জানান, ভুল বোঝাবোঝির কারণে এমনটা হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এরইমধ্যে বিষয়টি নিয়ে উচ্চ পর্যায়ে কথা বলেছে। দ্রুত বিষয়টি সমাধান করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। 

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার এম আর শওকত আনোয়ার ইসলাম জানান, বিষয়টি মীমাংসার জন্য দুই প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা হয়েছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সতর্ক আছে।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি