চার বছর আগে পাঁচ তারকা হোটেলে অনুষ্ঠিত বাফুফের উপ-নির্বাচনে হেরে গিয়ে বাড়ি চলে গিয়েছিলেন তাবিথ আউয়াল। আর কখনো বাফুফেতে পা দেননি। তখন তিনি সহ-সভাপতি পদে নির্বাচন করার জন্য লড়াই করেছিলেন। এবার যখন বাফুফের সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন নির্বাচন না করার ঘোষণা দিলেন, তখন তরফদার রুহুল আমিন ঘোষণা দিলেন, তিনি সভাপতি হতে চান।
ঘোষণার চার দিন পর তাবিথ আউয়াল ঘোষণা দিলেন, তিনি সভাপতি পদে নির্বাচন করবেন। ঘোষণা দিলেও তাবিথ মনোনয়নপত্র কিনতে বাফুফেতে যাননি। মনোনয়নপত্র জমা দিতেও জাননি। ভেতরে ভেতরে অভিমান ছিল তাবিথের। আবার যদি কোনো দিন বাফুফে যান, নির্বাচিত হয়েই সেখানে প্রবেশ করবেন। অবশেষে তাবিথের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। তাবিথ বাফুফের সভাপতি নির্বাচিত হলেন। তাবিথ জিতবেন সেটা অনুমিতই ছিল। কিন্তু তাবিথ নিজের কাজ করে গেছেন। তিনি যখন ইয়ংমেন্স ফকিরেরপুল ক্লাবে খেলতেন তখন শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র বড় দল। ইয়ংমেন্সকে ছোট দল গণ্য করায় সেই ম্যাচে হারতে হয়েছিল শেখ রাসেলকে। সেটি মনে করিয়ে দিলেন তাবিথ।
তাই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মিজানুর রহমান চৌধুরীকে কখনো খাটো করে দেখেননি। তাবিথ সভাপতি হবেন জেনেও কাল রাত পর্যন্ত ভোটকেন্দ্র হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে উপচে পড়া মানুষের ভিড় দেখা গেছে। সংবাদমাধ্যমের ভীড় উপেক্ষা করে নির্বাচন কমিশনার মেজবাহ উদ্দিন নতুন সভাপতি তাবিথের নাম ঘোষণা করেন। তার আগেই পেছন দিক থেকে অনুষ্ঠানস্থল ছেড়ে চলে যান সহ-সভাপতি পদে লড়াই করা দুই সাবেক ফুটবলার শফিকুল ইসলাম মানিক এবং রুম্মন বিন ওয়ালী সাব্বির। এই দুজন বছরের পর বছর কাজী সালাহউদ্দিনের সমালোচনা করে আসছেন।
গত নির্বাচনে মানিক সভাপতি পদে দাঁড়িয়ে সালাহউদ্দিনের বিপক্ষে এক ভোট পেয়েছিলেন। এবার তারা সহ-সভাপতি পদে নির্বাচন করার জন্য ভোটারদের কাছে নানামুখী উন্নয়নের কথা বললেও ভোটাররা পাত্তাই দেয়নি। তাদেরকে যোগ্য মনে করেনি। সভাপতি পদে তাবিথের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে ছিলেন মিজানুর রহমান চৌধুরী। তিনি পাঁচ ভোট পেয়ে কোন পথে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেছেন, তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। সন্ধ্যার পর হোটেলের বারান্দায় সংক্ষিপ্ত সংবাদসম্মেলনে তাবিথ আউয়াল প্রথমেই বলেন, 'ফুটবলকে এগিয়ে নেওয়ার বড় কাজটাই হবে আমাদের আসল কাজ। দেশের ফুটবল উন্নয়নে কাউন্সিলররা যেভাবে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন সেই স্বপ্ন পূরণ করার সব চেষ্টা করব।'
তাবিথের সঙ্গে পুরোনো মুখ সিনিয়র সহ-সভাপতি ইমরুল হাসান এসেছেন। আর সহ-সভাপতি হিসেবে নতুন মুখ নাসের শাহরিয়ার জাহেদী, ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপি, সাব্বির আহমেদ আরেফ এবং ফাহার করিম। এই চার মুখই ফেডারেশন পরিচালনায় নতুন মুখ। এটিকে তাবিথ বলেছেন, 'আমরা সব সময় মনে করি, সব সময় একটা ব্যালান্সড দল ভালো কাজ করে। এখানেও সেটাই হয়েছে। নতুন ও পুরোনো মুখের সমন্বয়ে আগামী দিনের ভালো কিছু কর্মসূচি হাতে নিতে পারব।'
বাফুফের নতুন সভাপতি তাবিথ বলেছেন, 'আজকে যে নির্বাচনে জয়ী হয়েছি, এটি বাংলাদেশের জয়। সাধারণ মানুষের জয়। এই জয়টা যেন কোনোভাবেই কেউ ছিনিয়ে নিতে না পারে।'
বাফুফের কমিটি নির্বাচিত হয়েছে চার বছর মেয়াদের। নতুন কমিটি প্রথম বৈঠকে বসে তারা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন কীভাবে তারা কোন দায়িত্ব পালন করবেন। তাবিথ বলেছেন, 'আমরা মুখের কথায় নয়। আমরা অ্যাকশনে বিশ্বাসী। কাজ করে দেশের মানুষকে দেখাতে চাই। আমাদের কাজের ফলাফল দেখবেন। আমরা নতুন ফুটবল আধুনিক ফুটবল খেলতে চাই। ফুটবল যেন দেশের মানুষের জন্য খুশির আনন্দ বয়ে আনতে পারে।'
তাবিথ নির্বাচন নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন না। নারী ফুটবল দল নেপালে সাফে খেলেছে। তার খবর রেখেছেন। ছেলেরা কম্বোডিয়ায় খেলেছে, সেই খবর নিয়েও সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন তিনি। তাবিথের পাশে ছিলেন নতুন মুখ নাসের শাহরিয়ার জাহেদী। সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়ে সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। এই মানুষটি দেশের ফুটবলে সবচেয়ে ব্যতিক্রম। তিনি ফুটবলের জন্য কাজ করে বাফুফেতে এসেছেন। তার মতো অবদান আর কারো নেই। এই সব মানুষকে টেক্কা দিয়ে সাবেক ফুটবলার সাব্বির-মানিকরা চেয়ারে বসতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাদের কথা বিশ্বাস করেননি কাউন্সিলররা।
যোগ্য প্রার্থী নাসের শাহরিয়ারকে দেশের ফুটবলে কাজ করার জন্য ১১৫ জন ভোট দিয়েছেন। সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে সহ-সভাপতি হয়েছেন নাসের শাহরিয়ার। কাউন্সিলরদের কথা হচ্ছে, শাহরিয়ার একজন সৎ মানুষ। তিনি থাকলে ফুটবলে গুণগত কর্মকাণ্ড ভালো হবে। তাই তাকে ভোট দিয়েছি।'
