বাফুফের নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত নিজের ভোট দিতেও আসেননি তরফদার রহুল আমিন। তিনি চট্টগ্রাম আবাহনী থেকে কাউন্সিলর হয়েছিলেন। ফুটবল অঙ্গনে তাকে নিয়ে কৌতুহল ছিল তিনি কেন্দ্রে আসবেন, ভোট দিতে আসলে সবার সঙ্গে দেখা হবে। কিন্তু সারা দিন কেটে গেলেও ভোটকেন্দ্রে তার দেখা মেলেনি। নিয়ম অনুসারে নির্বাচন কমিশন ভোট প্রদানের শেষ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করেছেন। দুপুরেই জানাজানি হয়ে যায় রুহুল আমিন আসবেন না।
রুহুল আমিন প্রথমে হাকডাক দিয়ে সভাপতি প্রার্থিতা ঘোষণা দেন। দুই দিন না যেতেই সেখান থেকে সরে গিয়ে সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েও নাম প্রত্যাহার করে নেন। ইমরুল হাসান আগেই সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে মনোনয়নপত্র কিনেছিলেন। তারপরও তরফদার রুহুল আমিন সেই পদে লড়াই করার ঘোষণা দিয়ে সরে গেলে ইমরুল হাসান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হন।
শনিবার (২৬ অক্টোবর) হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে নির্বাচন উৎসুক সাধারণ লোকের ভিড়ে ইমরুল হাসান বলছিলেন তার কাছে কিছু লোক এসে প্রস্তাব দিয়েছিলেন। ইমরুল সিনিয়র সহ-সভাপতির প্রার্থিতা সরিয়ে নেবেন কিনা। ইমরুল এই প্রস্তাব শুনে নিজের রাগ-ক্ষোভ দাঁতে দাঁত চেপে সহ্য করে গেছেন। হাসি মুখে নিজের অবস্থানের কথা জানিয়ে প্রস্তাবকারীদের বিদায় করেন। ইমরুল হাসান সরে গেলে তরফদার সেই পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হতেন। সেই সুযোগটি নিতে চেয়েছিলেন প্রস্তাবকারীরা।
ইমরুল বললেন, 'আমি তো বলেছিলাম আসুন নির্বাচন করুন। যে হারবে, সে হারবে। আপনি জিতলে জিতবেন। আমি হারলে হারব।' আরো একটি তথ্য যোগ করলেন ইমরুল হাসান। তার নাম করে কে বা কারা নির্বাচন কমিশনের কাছে গিয়ে সহ-সভাপতি পদে মনোনয়নপত্র কিনতে চেয়ে ব্যর্থ হয়। ইমরুল তখন থাইল্যান্ডে বাচ্চাকে ডাক্তার দেখাতে গেছেন। খবর পেয়ে সেখান থেকে নির্বাচন কমিশনের কাছে অনুরোধ করেন, 'আমার নামে কেউ মনোনয়নপত্র কিনতে আসলে যেন না দেওয়া হয়।' তার কথায় স্পষ্ট তরফদারের সঙ্গে ভোটাভুটি হলে দারুণ হতো।
ইমরুলের পাশে দাঁড়িয়ে আরেক জন মন্তব্য করলেন নির্বাচন হলে ইমরুল ভাই বিপুল ভোটে জিততেন। তরফদার রুহুল আমিন কেন নিজের ভোট দিতেও আসবেন না তা নিয়ে ভোটকেন্দ্রে হাজার লোকের ভিড়ে নানা গুঞ্জন ভেসে বেরিয়েছে। রুহুল আমিনের ঘনিষ্ঠজনরাও গ্রহণযোগ্য কোনো তথ্য দিতে পারেননি। ফোনে যোগাযোগ করা হলে তরফদার রুহুল আমিন জানালেন তিনি চট্টগ্রামে রয়েছেন। ব্যবসায়িক কাজে ব্যস্ত।
ভোট দিতে আসবেন কিনা এই প্রশ্নে রুহুল আমিন বলেন, 'না না আমি আসব না। ভোট দিয়ে কি হবে। আমার ব্যবসা আগে। ফুটবল নিয়ে পরে কাজ করা যাবে। আগে ব্যবসা। আমি সারা দিন মিটিং নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম।' সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করার কারণ জানতে চাইলে রুহুল আমিন বলেন, 'এটা এখন বলতে চাই না। এসব নিয়ে পরে কথা বলব। রাখি রাখি।'
