আবাদী জমির উর্বর মাটি চলে যাচ্ছে ইট ভাটায়

কাহারোলে জমির উত্পাদন ক্ষমতা দিন দিন কমে যাচ্ছে

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২৪, ১২:৪৪

দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার আবাদি জমির উপরিভাগের উর্বর মাটির একটি বড় অংশ চলে যাচ্ছে ইট ভাটায়। অর্থাভাবে জমির মালিকরা সল্পমূল্যে জমির উর্বর মাটি বিক্রি করছে। এতে জমিতে উত্পাদনের ক্ষমতা প্রায় ৪০ শতাংশ হ্রাস পাচ্ছে বলে উপজেলা কৃষি বিভাগ মনে করছেন। কিন্তু গবেষকদের আশঙ্কা বাস্তবে জমির উত্পাদন ক্ষমতা কমে যাচ্ছে আরও অনেক বেশি। ফলে কৃষি ও পরিবেশ ভয়াবহ বিপর্যয়ের সম্মুখীন হচ্ছে।

উপজেলার কৃষক পুনিল চন্দ্র রায় বলেন, উপরিভাগের জৈব উপাদান থাকলেও মালিকরা জৈব উপাদান যুক্ত মাটি বিক্রি করায় স্বাভাবিক উত্পাদন কমতে শুরু করেছে। এই কারনে উপজেলায় আমন, বোরো ও রবিশস্য উত্পাদন দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। জানা গেছে গ্রামের দরিদ্র কৃষকেরা অর্থাভাবে আবার কেউ কেউ সচেতনতার অভাবে ফসলি জমি উর্বর মাটি ইট ভাটায় বিক্রি করছেন। 

উপজেলা কৃষি গবেষকরা জানান, কৃষি জমির উর্বর অংশ ক্ষুবই গুরুত্বপূর্ণ। এভাবে কৃষি জমির টপ সয়েল উঠে গেলে আগামীতে ফসল উত্পাদন মারাত্মকভাবে ব্যহত হয়ে উত্পাদন কমে যাবে।

কাহারোল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মল্লিকা রানী বলেন, ফসলি জমির উপরিভাগ ১০ থেকে ২০ ইঞ্চি পরিমান মাটি উর্বর। এই মাটির সাথে জৈব উপাদান রয়েছে। ফসলি জমিতে ৫ শতাংশ জৈব সার থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে আছে মাত্র ১শতাংশ। 

তিনি আরও জানান, কৃষকেরা ক্ষতির বিষয়টি না জেনে টাকার লোভে ফসলি জমির উর্বর মাটি বিক্রি করছেন। আর কৃষি জমির মাটির বিক্রয় বিষয়টি আমরা সবসময় নিরুত্সাহিত করে থাকে।

ইত্তেফাক/এএইচপি