উৎসাহ-উদ্দীপনায় ভোট হলো জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২৪, ২১:৪৩

নিম্ন আদালতের বিচারকদের সংগঠন বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে এই সংগঠনের হয়নি নির্বাচন। এতে ক্ষুব্ধ ছিলো নিম্ন আদালতের বিভিন্ন পর্যায়ের বিচারকরা। অবশেষে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটে। ক্ষমতাচ্যুত হন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তৎকালীন সরকার ঘনিষ্ঠ যেসব বিচারক দীর্ঘদিন ধরে জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও মহাসচিবসহ বিভিন্ন পদ দখলে রেখেছিলেন রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে পর তারা পদত্যাগ করেন। অবশেষে পরিষ্কার হয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথ। এরপর গঠন করা হয় নির্বাচন কমিশন। কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী বুধবার (৩০ অক্টোবর) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। 

অনলাইনের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে নির্বাচনে দুই হাজার বিচারক ভোট দেন। ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বিচারকরা তাদের ভোটাধিকার প্রদান করেন। দীর্ঘ ২৫ বছর পর ভোট দিতে পেরে খুশি বিচারকরা। 

তারা বলছেন, এই সংগঠনকে অতীতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে। কারণ নিম্ন আদালতের যেসব বিচারক রায় বা আদেশ দিয়ে অন্যায় আচরণের শিকার হয়েছেন তার বিরুদ্ধে কোন বক্তব্য বা বিবৃতিও দেয়নি সংগঠনের তৎকালীন নেতারা। ফলে বিচারকদের মনে এক ধরনের ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের মাধ্যমে সেই ক্ষোভ কিছুটা হলেও প্রশমিত হবে।

এবারের নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মোঃ নূরে আলম, বিচারক। কমিশনার ছিলেন ঢাকার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ নাসরিন জাহান, ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান ও নাটোরের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. শানু আকন্দ। ঢাকার বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে এই ভোট অনুষ্ঠিত হয়।

প্রসঙ্গত গত ২৭ অক্টোবর বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলকে নির্বাচন আয়োজনের বিষয়টি অবহিত করেন।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি