কালাইয়ে ডিবি পরিচয়ে অর্থ ও স্বর্ণ লুটের অভিযোগ

আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০২৪, ১৫:০০

জয়পুরহাটের কালাইয়ে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ে বাড়ি তল্লাশির নামে দিনে ঘরে প্রবেশ করে নগদ টাকা এবং সোনার গয়না লুট করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কালাই উপজেলার মাত্রাই ইউনিয়নের ভেরেন্ডি গ্রামের আনিসুর রহমানের বাড়িতে গতকাল বুধবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

ভুক্তভোগী এবং এলাকাবাসীর সূত্রে জানা গেছে, কালাই উপজেলার মাত্রাই ইউনিয়নের ভেরেন্ডি গ্রামের আনিসুর রহমানের বাড়িতে গতকাল বুধবার বিকেলে দুটি মোটরসাইকেলে, সাদা পোশাকে চারজন লোক গিয়ে নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দেন। তাদের হাতে হ্যান্ডকাপ এবং রিভালবার ছিল। তারা বাড়ির সদস্যদের ভয়ভীতি দেখান। এরপর ওই বাড়িতে অবৈধ মালপত্র ও মাদকদ্রব্য আছে, তাই ঘর তল্লাশি করতে হবে জানিয়ে সবাইকে ঘরের বাইরে পাঠিয়ে দেন তারা। চারজনের মধ্যে একজন ঘরের দরজায় পাহারা দিচ্ছিলেন। সেখান প্রায় ৩০ মিনিট পর তারা ঘর থেকে বের হোন। এরপর বাড়ির লোকদের জানান তথ্য ভুল ছিল। তাই চলে যাচ্ছেন বলে মোটরসাইকেলে দ্রুত পালিয়ে যান। এরপর আনিসুরের ছেলে জাকারিয়া ও তার পরিবারের লোকজন ঘরে ঢোকেন। সে সময় তারা আলমারির ড্রয়ার খোলা দেখতে পান। ড্রয়ারের রাখা নগদ ৮০ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার দেখতে পাননি। এরপর ঘটনাটি তাঁরা থানা-পুলিশকে জানিয়ে দেন।

ভুক্তভোগী আনিসুরের ছেলে মো.জাকারিয়া জানান, আমার বাবা আনিসুর রহমান মাদকাসক্ত এটা গ্রামবাসী সবাই কম-বেশি জানেন। সে কারণে আগেও তাদের বাড়িতে ২-৩ বার পুলিশ গিয়েছিল। গতকাল বুধবার বিকেলে সাদা পোশাকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে চারজন লোক তাদের বাড়িতে ঢোকে। তাদের হাতে ছিল হ্যান্ডকাপ ও রিভালবার। তারা যাওয়ার পর দেখতে পান তাদের আলমারির ড্রয়ারে রাখা নগদ ৮০ হাজার টাকা ও তিন ভরি স্বর্ণালংকার নেই।

তিনি আরও জানান, তাদের বাড়ির বাইরের একটি দোকানে সিসিটিভি ক্যামেরা আছে। সেখানে তাঁদের ছবি দেখা গেছে। পুলিশ তদন্ত করলে, তাঁদের শনাক্ত করতে পারবে বলে তিনি আশাবাদী।

এই বিষয়ে কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ হোসেন বলেন, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিকভাবে বিষয়টি ডাকাতি বা লুটপাটের বলে মনে হয়নি। ওই বাড়ির পার্শ্ববর্তী দোকানের সিসি টিভির ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। বিষয়টি ভালোভাবে খতিয়ে দেখে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ইত্তেফাক/এএইচপি