উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে ম্যাচের আগে বিশাল 'ফ্রি প্যালেস্টাইন' ব্যানার উন্মোচন করেছেন প্যারিস সেইন্ট জার্মেইর (পিএসজি) ফুটবল সমর্থকরা। স্থানীয় সময় বুধবার (৬ নভেম্বর) পার্ক দেস প্রিন্সেস স্টেডিয়ামে কিক অফের আগে প্যারিস আল্ট্রাস কালেক্টিভের (সিইউপি) হার্ড-কোর ফ্যান গ্রুপ ব্যানারটি উন্মোচন করে।
এদিকে, এ ঘটনার বেশ ক্ষুব্ধ হয়েছেন ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রেইলেউ। তিনি বলেছেন, ক্লাবের কাছে এ নিয়ে 'ব্যাখ্যা' চাইবেন।
বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) একটি রেডিওকে ব্রুনো রেটেইল বলেন, আমি জানতে চাই, কীভাবে এই ব্যানারটি উত্তোলন করা হলো। প্যারিসের পুলিশ প্রধান (লরেন্ট নুনেজ) ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়েছেন। আমরা বেশ কিছু বিষয়ে একমত হয়েছি, কিন্তু জবাবদিহিতা দাবি করছি।
তবে ইউরোপিয়ান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, তারা পিএসজির বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে না।
উয়েফার এক মুখপাত্র বলেন, শৃঙ্খলা ভঙ্গের কোনো মামলা হবে না। কারণ যে ব্যানারটি উড়িয়েছে, তা 'উস্কানিমূলক বা অপমানজনক' বলে বিবেচিত হতে পারে না।
প্যারিসে উয়েফা নেশন্স লিগের ম্যাচে ফ্রান্স ইসরায়েলকে আতিথ্য দেওয়ার ৮ দিন আগে এই ঘটনা ঘটলো।
দর্শক গ্যালারিতে দেখানো ব্যানারটি ৫০ মিটার চওড়া ও ২০ মিটার উঁচু ছিল। পিএসজির গোলবারের পেছনের দুই স্তরে ছড়িয়ে থাকা ব্যানারটিতে ফিলিস্তিনি ও লেবাননের পতাকার কেন্দ্রস্থলে অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদের ছবি আঁকা রয়েছে।
ব্যানারে একটি বার্তাও ছিল। সেটি হলো- 'মাঠে যুদ্ধ, কিন্তু বিশ্বে শান্তি।' এতে ফিলিস্তিনের ঐতিহাসিক মানচিত্রও দেখানো হয়েছে।
ম্যাচ চলাকালীন সমর্থকরা আরেকটি বার্তা উন্মোচন করেন, যাতে লেখা ছিল: 'গাজায় একটি শিশুর জীবন কি অন্য শিশুর চেয়ে কম অর্থবহ?'
এদিকে জার্মান মন্ত্রী রিটেলিউ এক্স-বার্তায় লিখেছেন, 'আমি পিএসজিকে নিজেদের এবং ক্লাবগুলোকে ব্যাখ্যা দিতে বলব এটা নিশ্চিত করতে যে, রাজনীতি যেন খেলাধুলার ক্ষতি না করে, যা সবসময় ঐক্যের উৎস হিসেবে থাকতে হবে।'
তিনি আরও বলেন, 'যদি এমন ঘটনা আবারও ঘটে, তাহলে যেসব ক্লাব নিয়ম প্রয়োগ করে না, তাদের জন্য ব্যানার নিষিদ্ধ করার বিষয়টি আমাদের বিবেচনা করতে হবে।'
অপরদিকে ম্যাচ শেষে এক বিবৃতিতে পিএসজি জানায়, এ ধরনের বার্তা দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা সম্পর্কে তারা অবগত ছিল না।
তবে ফরাসি মন্ত্রীর এমন মন্তব্যের পর পিএসজির সঙ্গে যোগাযোগ করে আল জাজিরা। ক্লাবের তরফে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
গত বছর গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের একটি ম্যাচে সমর্থকরা ফিলিস্তিনের পতাকা নাড়ানোয় স্কটিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব সেল্টিককে ১৯ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়েছিল। ক্লাবের সমর্থকরা ফিলিস্তিনি পতাকা উড়ানোর ক্ষেত্রে আগের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেছিল বলে জানানো হয়।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলের গণহত্যায় অন্তত ৪৩ হাজার ৩৯১ জন ফিলিস্তিনি নিহত ও ১ লাখ ২ হাজার ৩৪৭ জন আহত হয়েছেন। গাজার যুদ্ধ লেবাননে ছড়িয়ে যাওয়ার পর সেখানেও ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৩ হাজার ৫০ জন নিহত ও ১৩ হাজার ৬৫৮ জন আহত হয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
