দুই চালককে হত্যা করে অটোরিক্সা ছিনতাই, গ্রেপ্তার ৩

আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০২৪, ০১:৩৫

গত সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে গেন্ডারিয়া থানা এলাকায় দুই অটোরিক্সা চালককে হত্যা করে অটোরিক্সা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার রহস্য উদঘাটনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপি গেন্ডারিয়া থানা পুলিশ। 

গ্রেপ্তাররা হলেন- জালাল সরদার ওরফে মাইকেল (২১), ফজলে রাব্বি ওরফে কালা (২৫) ও মো. ইমরান (৩০)।

গত ২১ সেপ্টেম্বর আনুমানিক ১২টার দিকে রিক্সাচালক জিন্নাহ (৬০) গেন্ডারিয়ার জুরাইনের একটি গ্যারেজ থেকে অটোরিকশা নিয়ে বের হন। পোস্তগোলা থেকে অজ্ঞাতনামা দুই জন যাত্রী নিয়ে রাত তিনটার দিকে গেন্ডারিয়া থানার আঞ্জুমান কবরস্থানের সামনে পৌঁছালে ওই দুই জন যাত্রী পিছন থেকে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গুরুতরভাবে আঘাত করে। রিক্সাচালক জিন্নাহর চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে অজ্ঞাতনামা দুই জন যাত্রী পালিয়ে যায়। উপস্থিত লোকজন জিন্নাহকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় গত ২৩ সেপ্টেম্বর জিন্নাহর ছেলে মো. ইউসুফ হোসেনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে গেন্ডারিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু করা হয়।

এই মামলার তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই গত ১৫ অক্টোবর রাত আনুমানিক ৩টার দিকে গেন্ডারিয়ার দ্বীননাথ সেন রোডে কচিকাচা বিদ্যানিকেতন গলিতে রিক্সা চালক আনোয়ার (৪০) কে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলায় আঘাত করে হত্যা করে আরও একটি অটোরিক্সা ছিনতাই করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় গত ২১ অক্টোবর আনোয়ারের চাচাতো ভাই মো. মানিকের অভিযোগের প্রেক্ষিতে গেন্ডারিয়া থানায় আরও একটি হত্যা মামলা রুজু হয়।

দুটি মামলার ঘটনা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, দুটি ঘটনারই মোডাস অপারেন্ডি (অপরাধের কৌশল) একই ধরনের। পুলিশ নিশ্চিত হয় একটি নির্দিষ্ট অপরাধী চক্র এই ধরণের অপরাধের সাথে জড়িত। তদন্তকালে ঘটনাস্থলসহ আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে পর্যালোচনাসহ সকল ধরনের তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় দুইজন ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয় এই একই অপরাধী চক্র দুটি হত্যার ঘটনায় জড়িত। তদন্তে পুলিশ নিশ্চিত হয় দুইজনের মধ্যে একজনের নাম জালাল সরদার ওরফে মাইকেল। পরবর্তী সময়ে গত ২৪ অক্টোবর ভোর সাড়ে পাঁচ ঘটিকায় পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে গেন্ডারিয়া থানা পুলিশ।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জালাল দুটি হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। সে জানায় আঞ্জুমান কবর স্থানের পাশে অটোরিক্সা চালক জিন্নাহ হত্যার ঘটনায় তার সাথে ফজলে রাব্বি কালাও ছিল। কিন্তু আনোয়ারকে হত্যাসহ রিক্সা ছিনতাইয়ের ঘটনা সে একাই করেছে। সে জানায় এই ছিনতাইকৃত অটোরিক্সাটি গেন্ডারিয়ার মো. ইমরান (৩০) নামে একজনের নিকট ১৩ হাজার টাকায় বিক্রি করেছে। 

২৫ অক্টোবর রাত ২টার দিকে গেন্ডারিয়া থানা পুলিশ ডিআইটি প্লট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মৃত আনোয়ারের ছিনতাইকৃত অটোরিক্সাটি মো. ইমরান এর হেফাজত থেকে উদ্ধার করে এবং ছিনতাই হওয়া অটোরিক্সা ক্রয়ের অপরাধে তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করে।

জালাল সরদার ওরফে মাইকেল আঞ্জুমান কবর স্থানের সামনে অটোরিক্সা ছিনতাই ও রিক্সা চালক আনোয়ার হত্যার জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ২৫ অক্টোবর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করে।

পরবর্তী সময়ে গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় গত শনিবার (৩ নভেম্বর) দিবাগত রাতে গেন্ডারিয়ার কবরস্থান এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ফজলে রাব্বি ওরফে কালাকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

ওইদিন তাকে আদালতে প্রেরণ করলে ফজলে রাবিঝ ওরফে কালা অটোরিক্সা চালক জিয়াহ হত্যার ঘটনায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করে এবং জিন্নাহ হত্যার ঘটনায় মাইকেলের জড়িত থাকার বিষয়ে তথ্য প্রদান করে। 

গ্রেপ্তার মাইকেলও জিন্নাহ হত্যার ঘটনার কথা স্বীকার করে ৬ নভেম্বর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেছে। 

দুটি মামলারই সুষ্ঠু তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

ইত্তেফাক/এনএন