মাদারীপুরে নদ-নদী থেকে বালু তোলার হিড়িক

আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০২৪, ১৭:০৬

মাত্র চার বছর আগেই মাদারীপুর জেলাকে ড্রেজারমুক্ত ঘোষণা করা হয়। অথচ নদনদী থেকে এখনো বালু উত্তোলন বন্ধ হয়নি। প্রতি রাতে নদ-নদী থেকে বালু তুলে যাচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। প্রতিনিয়ত ২০-২৫টি স্পট থেকে বালু তোলায় ভাঙ্গছে পাড়, বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে মানুষ। বার বার অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার পাচ্ছেন না এলাকাবাসী। যদিও প্রশাসন বলছে, বালু উত্তোলন বন্ধে তাদের অভিযান চলছে।

জানা যায়, ২০২০ সালের অক্টোবরে মাদারীপুর জেলাকে ড্রেজারমুক্ত ঘোষণা করে তৎকালীন জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন। তবে থামেনি নদ-নদী থেকে বালু উত্তোলন। সরেজমিন দেখা যায়, রাজৈর উপজেলার হরিদাসদি-মাহেন্দ্রদী, কবিরাজপুর, সদরের শ্রীনদী, কালিরবাজার, ধুরাইল, পাঁচখোলার জাজিরার তাল্লুক, মহিষেরচর, কালকিনির ফাঁসিয়াতলা, শিবচরের কাঁঠালবাড়ি, কুতুবপুরসহ জেলার ২০-২৫টি স্পটে নিয়মিত বালু তোলা করা হচ্ছে। দিনের বেলা ড্রেজার মেশিনগুলো নদনদীর পাড়ে রাখা হয়। এরপর কোথাও সন্ধ্যা, আবার কোথাও মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত চলে বালু তোলা। এসব বালু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে একাধিক বার অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার মিলছে না।

বছরের পর বছর ধরে চলা অবৈধ ব্যবসার ফলে ভাঙছে নদ-নদীর পাড়, ফসলি ও বসবাসের জমি।  খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজৈর উপজেলার হরিদাসদি-মহেন্দ্রদীর কালীবাড়ির কুমার নদ এলাকা, কালকিনির ফাঁসিয়াতলার আড়িয়াল খাঁ নদ, শিবচরের কাঁঠালাবাড়ির মাগুরখন্ড এলাকায় পদ্মা নদী, সদরের শ্রীনদীর কুমার নদ ও পাঁচখোলার আড়িয়াল খাঁ থেকে বালু উত্তোলন করা হয় সবচেয়ে বেশি। এসব এলাকায় নদনদী ভাঙ্গনও বেশি।

রাজৈরের হরিদাসদি-মহেন্দ্রদী ইউনিয়নের এক মেম্বর ও  কালীবাড়ি এলাকার কহিনুর বেগমসহ এলাকাবাসীরা বলেন, রাত ৮টার পর শুরু হয় বালু তোলা। এলাকার সুবিধাভোগী লোকজন দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে বালু ব্যবসায়ীদের সারারাত পাহারা দেয়। কিছু বলতে গেলেই হামলা চালায়। আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি। কালীবাড়ি এলাকার নুর নবী বলেন, নদের দুই পাড়ের লোকজন বালু উত্তোলনে জড়িত। সংশ্লিষ্ট সবাই টাকা খেয়ে চুপ।  

নান্নু মাতুব্বর নামে আরেকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, অবাধে বালু তোলায় পাড়ের ভাঙ্গন বন্ধ হচ্ছে না। আমার কৃষি জমি কুমার নদে বিলীন হয়ে গেছে। আগে জমি থেকে ৭০-৮০ মন ধান পেতাম। এখন আমি অসহায়, নিঃস্ব।

কালকিনির ফাঁসিয়াতলা এলাকার বাসিন্দারা জানান, প্রতি রাতেই আড়িয়াল খাঁ নদে ড্রেজার দিয়ে বালু তোলা হয়। আর ভোর হওয়ার আগেই ড্রেজার মেশিন ও বাল্কহেড নিয়ে সরে যায় বালু ব্যবসায়ীরা। অথচ প্রশাসন দিনের বেলায় অভিযান চালায়, কোনো দৃশ্যমান কার্যক্রম দেখতে পায় না। স্থায়ীভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করতে হলে এর মূলহোতাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

মাদারীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে। প্রতিদিনই জেলা ও উপজেলা প্রশাসন থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিযান চালাচ্ছেন। জেল ও আর্থিক জরিমানা দেওয়া হচ্ছে। অসাধু ব্যবসায়ীদের সবাইকেই পর্যায়ক্রমে আইনের আওতায় আনা হবে।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি