সিরাজগঞ্জের তাড়াশে কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠের মিনারের মধ্যে বসে গাছের চারা বিক্রি করছেন ফরিদুল ইসলাম ওরফে ফটিক নামে একজন ব্যবসায়ী। তাকে মিনার ভাড়া দিয়েছেন তাড়াশ বাজারের ইজারাদার ও খাজনা আদায়কারী আব্দুস সালাম।
এদিকে ইজারাদার আব্দুস সালাম বলেন, আমার বিরুদ্ধে মিনার ভাড়া দেওয়ার অভিযোগ সত্য নয়। আমি শুধু প্রতিদিন ২০ টাকা খাজনা আদায় করি।
সরেজমিনে গতকাল শনিবার সকালে দেখা গেছে, ঈদগাহ মাঠের মিনারের ভেতরে রীতিমত চৌকি পেতে বসেছেন ফরিদুল ইসলাম ওরফে ফটিক নামের ঐ গাছের চারার ব্যবসায়ী। মিনারের ভেতরেই খানাপিনা করেন, মিনারের ভেতরেই চলে ধূমপান ও লোকজন নিয়ে আড্ডা।
গাছের চারার ব্যবসায়ী ফরিদুল ইসলাম ওরফে ফটিক বলেন, আমার এত সাহস নাই ঈদগাহ মাঠের মিনারে বসে ব্যবসা করার। আমাকে ইজারাদার বসিয়ে দিয়েছেন।
তাড়াশ পৌর শহরের বাসিন্দা ও তাড়াশ পৌর বিএনপির সদস্য সচিব মো. আব্দুল বারিক খন্দকার বলেন, ঈদগাহ মাঠে ফেলা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা। ফলে ঈদগাহর সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে ও পরিবেশ দূষণ হচ্ছে।
অপরদিকে তাড়াশ সচেতন নাগরিক আন্দোলনের নেতা আব্দুর রাজ্জাক রাজু বলেন, শুধু ঈদের নামাজ নয়, জানাযার নামাজও অনুষ্ঠিত হয় কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গার্ড অব অনার দেওয়া হয় এ মাঠেই। এ মাঠেই স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবসের তোপধ্বনি দেওয়া হয়। জাতীয় দিবস পালনের অনুষ্ঠানগুলো এ মাঠেই হয়ে থাকে। হেলিপ্যাড মাঠ হিসাবেও কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠকেই ব্যবহার করা হয়। আগে ফুটবল ও ক্রিকেট খেলা হত। মাঠের দক্ষিণ পাশে কাঁচা বাজার লাগানোয় এখন কোনো খেলাধুলা হয়না।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক খালিদ হাসান দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠ থেকে ব্যবসায়ীদের সরিয়ে দেওয়া হবে। মাঠের সৌন্দর্য রক্ষায় পৌরবাসীর সচেনতাই মূখ্য।
