তাবিথের দুই হাতে দুই কমিটি 

আপডেট : ১০ নভেম্বর ২০২৪, ১৪:২২

বাফুফের নবনির্বাচিত কমিটির প্রথম সভায় বিভিন্ন কমিটির দায়িত্ব বণ্টন হয়ে গেছে। সভাপতি তাবিথ আউয়াল ন্যাশনাল টিমস কমিটি এবং অর্থ কমিটির দায়িত্ব নিয়েছেন। এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তিনি নিজে দেখভাল করতে চান। জাতীয় দলের দায়িত্বে ছিলেন কাজী নাবিল, জাতীয় দল নিয়ে নানা সমস্যা থাকলেও কাজী সালাহউদ্দিনকে সেই সব সমস্যার সমাধান করতে হতো। তাবিথ আউয়ালও একসময় ন্যাশনাল টিমস কমিটির ডেপুটি হয়ে কাজ করেছেন। সেখানেও তিনি নিজের পকেট থেকে টাকা খরচ করতেন। জাতীয় দল নিয়ে অনেক বিতর্ক রয়েছে। নানা কথা ফুটবল অঙ্গনে ভেসে বেড়াচ্ছিল। অর্থ কমিটির কর্মকাণ্ড নিয়েও নানা বিতর্ক হয়েছে। 

কাজী সালাহউদ্দিনের চোখ ফাঁকি দিয়ে নানা অনিয়ম হয়ে হয়েছিল। তাবিথ এসব অনিয়ম হতে দিতে চান না। দেশের ফুটবল চলবে দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে। অর্থ খরচ হবে সঠিক স্থানে। এসব নিয়ে যেন বিতর্ক তৈরি না হয় তাবিথ সেই কাজটুকু স্বচ্ছতার সঙ্গে করতে চান। কিন্তু এখানেই নাকি সমস্যা তৈরি হয়েছে। বাফুফের নতুন কমিটি বসতে না বসতে দ্বিধা দ্বন্দ্ব শুরু হয়ে গেছে। কমিটি পাওয়া না পাওয়া নিয়ে মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়েছে বলে ফুটবল অঙ্গনের খবর। 
বাফুফের প্রথম সভা, সেখানে ছিলেন না সিনিয়র সহ-সভাপতি ইমরুল হাসান। 

বাফুফের একাধিক সদস্যের দাবি ইমরুল ভাই ন্যাশনাল টিমস কমিটি এবং অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাকে পূর্বের পেশাদার লিগ কমিটির চেয়ারম্যান হিসাবেই রাখা হয়েছে। বেলা ২টায় সভা শেষে ফুটবল ভবনেই কানাঘুষা চলছিল। ফুটবল কর্তাদের মধ্যে চাউর হয়, পছন্দের কমিটি না পেয়ে ইমরুল ভাই রাগ করেছেন এবং প্রথম সভায় আসেনি। 

এসব কথা মিটিং শেষে ইমরুলের ঘনিষ্ঠজনদের বলাবলি করতে শোনা গেছে। কাজী সালাহউদ্দিনের মেয়াদে ইমরুল হাসান স্বশরীরে সভায় উপস্থিত না থাকলেও তিনি ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দিতেন। গতকাল কোনোটাই করেননি। এ ব্যাপারে সত্যতা যাচাইয়ের জন্য গতকাল সন্ধ্যায় ইমরুল হাসানের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাড়া দেননি। মিডিয়া কমিটির নতুন চেয়ারম্যান এবং বাফুফের নবনির্বাচিত সদস্য আমিরুল ইসলাম বাবুও জানালেন, 'ইমরুল ভাই কেন মিটিংয়ে আসেননি, আমি জানি না। উনি জুম মিটিংয়েও ছিলেন না।' 

তিনি বলেন, 'আগের কমিটির যারা নির্বাচিত হয়ে এসেছেন তাদের পারফরম্যান্স ভালো ছিল বলেই এবারও নিজ নিজ দায়িত্বে রাখা হয়েছে।' সহ-সভাপতি ফাহাদ করিম জানিয়েছেন কোনো দ্বন্দ্ব নয়, এসব ভুল কথা। ইমরুল ভাই কোনো কাজে আটকে গিয়েছিলেন। আসতে পারবেন না সেটি সভাপতি সাহেব আমাদেরকে জানিয়েছেন। যা কিছু হয়েছে সবই তার সঙ্গে আলোচনা করেই হয়েছে। এখানে ভুল বুঝাবুঝির কিছু নেই।' 

সালাহউদ্দিনের মেয়াদের শেষভাগে ইমরুল হাসান পেশাদার লিগ কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। ৫ আগস্টের পরিবর্তনের পর সালাম মুর্শেদী পদত্যাগ করলে ইমরুলকে বাড়তি দায়িত্ব হিসেবে বাফুফের অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়। নতুন নির্বাচনের পর বিভিন্ন কমিটির দায়িত্ব বণ্টন করতে গিয়ে দ্বন্দ্বের শুরু। ফুটবলে সভাপতি এবং সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্ব সব থেকে বেশি। তাদের মধ্যে যদি মানসিক বোঝাপড়া থাকে সেটি দেশের ফুটবলের জন্য মঙ্গল। আর নিন্দুকের কথা যদি সত্য হয়েও থাকে, সেটি মিথ্যা প্রমাণ করে দিতেও তাবিথ-ইমরুলের এক সেকেন্ড সময় লাগবে না। বাফুফে জানিয়েছে অর্থ কমিটির মেয়াদ হবে চার বছর এবং অন্য স্ট্যান্ডিং ও অ্যাডহক কমিটির গঠন করা হয়েছে এক বছরের জন্য। 

নারী দলের পুরস্কার 

সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়ে আসা বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের জন্য আগেই বলা হয়েছিল বাফুফে থেকে পুরস্কার দেওয়া হবে। সভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে জানাবে। গতকাল বাফুফের প্রথম সভা শেষে জানানো হয় সাবিনা, তহুরা, ঋতুপর্ণা, মনিকাদের জন্য দেড় কোটি টাকা দেওয়া হবে। সেটা কীভাবে, কোন খাত থেকে দেওয়া হবে প্রশ্নে জানানো হয়-বাফুফে তহবিল থেকেই দেওয়া হবে। 

৩০ নভেম্বর পুনর্নির্বাচন 

বাফুফের ২১ জনের কমিটি। ১ জন সভাপতি, ১ জন সিনিয়র সহসভাপতি, ৪ জন সহ-সভাপতি এবং ১৫ জন সদস্য। গত ২৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সদস্য পদে ১৪ জন নির্বাচিত হলেও ২ জন প্রার্থী সমান ভোট পেয়েছেন। এখলাছ উদ্দীন ৬১ ভোট এবং জাতীয় দলের সাবেক তারকা ফুটবলার সাইফুর রহমান মনি পেয়েছিলেন ৬১ ভোট। আগামী ৩০ নভেম্বর পুনরায় ভোট গ্রহণ করা হবে। বাফুফে ভবনে বেলা ১১টা থেকে ২টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে। মনি গত নির্বাচনেও ১ ভোটের জন্য পাশ করতে পারেননি।

ইত্তেফাক/জেডএইচ