ভারী বর্ষণ ও মাতামুহুরী নদীতে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে কক্সবাজারের চকরিয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিশাল এলাকার বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের পুরুত্যাখালী পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটেছে। এরপর থেকে বেড়িবাঁধের ভেঙে যাওয়া অংশ দিয়ে লোকালয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ঢলের পানি। এ অবস্থায় উপজেলার উপকূলের সাত ইউনিয়নে বন্যা পরিস্থিতি চরম অবনতি ঘটেছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
অপরদিকে ভারী বর্ষণ পরবর্তীতে লামা-আলীকদমের পাহাড় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মাতামুহুরী নদীতে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত দুইদিনে নদীর দুই তীরের বিভিন্ন পয়েন্টে অন্তত ২০ থেকে ২৫ অংশে বড় ধরণের ভাঙন দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় ভাঙনের কবলে পড়ে চরম হুমকির মুখে পড়েছে চিরিঙ্গা-বদরখালী-মহেশখালী সড়কের বাটাখালী সেতুটি। পাশাপাশি নদীতে বিলীন হওয়ার পথে রয়েছে সেতুর পাশের একটি জামে মসজিদ, ওই এলাকার অন্তত ৫০ থেকে ৬০টি বসতি এবং বিপুল পরিমাণ আবাদি জমি। ভাঙ্গনে বাটাখালী সেতুর পূর্ব অংশের মাটি সরে গেলে যেকোনো মুহূর্তে চিরিঙ্গা-বদরখালী-মহেশখালী সড়কের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের চকরিয়া উপজেলার চিরিঙ্গা শাখা কর্মকর্তা (এসও) এসএম তারেক বিন সগীর। তিনি বলেন, ভারী বর্ষণ পরবর্তীতে পাহাড়ি ঢলের মাতামুহুরী নদীতে ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করেছে।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান বলেন, কোনাখালী ইউনিয়নের পুরুত্যাখালী পয়েন্টে বেড়িবাঁধের ভেঙে যাওয়ার ঘটনাটি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আমাকে জানিয়েছেন। বিষয়টি কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীকে অবগত করা হয়েছে। তিনি কথা দিয়েছেন সহসা ক্ষতিগ্রস্ত পয়েন্টের বেড়িবাঁধ মেরামত কাজ শুরু করবেন।
তিনি বলেন, উপজেলার ১৮টি ইউনিয়নের ‘বন্যার্তদের মাঝে বিতরণের জন্য জেলা প্রশাসন ৪০ মেট্রিক টন চাল ও ২০০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এসব ত্রাণ সামগ্রী স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
ইত্তেফাক/জেডএইচ
