রাতের ঘুমটা ভালো হয়নি। সকাল বেলা নাস্তার টেবিলে কফির পেয়ালায় চুমুক দেওয়ার মানসিকতা ছিল না বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের। সভাপতি হয়েছেন ১৯ দিনও হয়নি। এরই মধ্যে প্রীতি ম্যাচে মালদ্বীপের বিপক্ষে বাংলাদেশের (১-০) এমন হারে মন ভালো রাখা গেল না। মালদ্বীপের কোচ বাংলাদেশকে হারিয়ে বলেছেন ৪৭ বছরের ইতিহাসে এটা তাদের ঐতিহাসিক জয় বাংলাদেশের মাটিতে, বাংলাদেশের বিপক্ষে যে দলটি গত এক বছর আন্তর্জাতিক ম্যাচ-ই খেলেনি, লিগও হয়নি তাদের দেশে, মালদ্বীপ।
ফেডারেশন অভিভাকহীনতায় সাংগঠনিক দুর্বলতায় ভুগছে। সেই দলটা কীভাবে নিয়মিত চর্চার মধ্যে থাকা বাংলাদেশকে হারিয়ে দিল। তাবিথ নিজের মনটাকে বুঝাতে পারছেন না। রাগও হতে পারছিলেন না। ঘরের মাঠ, ঘরের দর্শক, পুরো নিজের পরিবেশ। তার পরও কেন এই হাল হবে। এখনই কোনো কথা না বলে শনিবার দ্বিতীয় প্রীতি ম্যাচের অপেক্ষায় থাকছেন তাবিথ। কষ্টটা পুষে রেখেছেন, প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে অনেক ব্যাপারে। কিন্তু কোনোটাই প্রকাশ করছেন না। পুরো ম্যাচের রিভিউ করছেন নিজের সঙ্গে। আর অন্য কর্তাদের কাছ থেকে নানা কথা শুনতে হচ্ছে।
সভাপতি হওয়ার আগেও তাবিথ জাতীয় দল গঠন নিয়ে অনেক কথা শুনেছেন। কিন্তু তখন কিছু করার সুযোগ ছিল না। এখন ফুটবলের বস হয়েছেন দায়িত্ব তার ঘাড়েই আসবে। ঘুমিয়ে থাকার সময় কই। তাই গতকাল সাত সকালে টিম হোটেলে হাজির বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল। ফুটবলাররা সকালে নাস্তার টেবিলে আসবেন। তাই ওখানেই সব কথা সেরে নিতে চান তাবিথ। দীর্ঘক্ষণ ছিলেন। প্রায় সব ফুটবলারের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন, কথা বলেছেন। নানা সমস্যা নিয়ে কথা বলেছেন। সমাধানের কথা কোচ বলবেন। সেদিকটায় হাত দিতে নারাজ এই সাবেক ফুটবলার।
নিজের ফুটবল জ্ঞান যতই থাকুক কোচ যতক্ষণ আছেন সেখানে নাক গলাতে রাজি না। তাবিথ জানিয়ে গেছেন, ফুটবলারদেরকে তিনি বুস্টআপ করতে হোটেলে ইন্টারকন্টিনেন্টালে গেছেন। তপু, মোরসালিন, রাকিব, রহমত, ইসা ফয়সাল, সাদ উদ্দিন, জনি, মিতুল মারমা, শাহরিয়ার ইমনরা একনিষ্ঠ ছাত্রের মতো নীরব হয়ে কথা শুনলেও ম্যানেজার আমের খানকে পাশে নিয়ে তাবিথ বার বার হাসি মুখে সবাইকে উৎফুল্ল করার চেষ্টা করেছেন। ফুটবলাররা মালদ্বীপের কাছে লজ্জার হার থেকে বেরিয়ে নতুনভাবে গড়ে ওঠার পরামর্শ তাবিথের। মন খারাপ না করে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ, এই ছোট্ট কথাটা বুঝাতেই সাত সকালে হোটেলে লবিতে হাজির হয়েছিলেন বাফুফের নতুন সভাপতি।
জাতীয় দল গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে নানা কথা ক্লাবে ক্লাবে, ফুটবলের বাজারে কানাঘুষা হয়। বসুন্ধরা কিংসের বেঞ্চের ফুটবলাররা জাতীয় দলে নিয়মিত ডাক পান। বিভিন্ন ক্লাবের জাতীয় দল গঠন প্রক্রিয়ায় যেসব অদৃশ্য দেয়াল তৈরি হয়েছে তা ভাঙতে চান তাবিথ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দেশের ফুটবলের স্বার্থে প্রয়োজনীয় সবই করতে চান, বাফুফে সভাপতি বার বার বলেছেন, 'জাতীয় দলের পারফরম্যান্সের সঙ্গে দেশের ফুটবলের তথা বাফুফের ইমেজ জড়িত। মাঠে যখন ভালো হবে তখন দেশের ফুটবলের ইমেজটাও বাড়বে।'
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দেশের ফুটবলের স্বার্থে প্রয়োজনীয় সবই করতে চান, বাফুফে সভাপতি। বার বার বলেছেন, 'জাতীয় দলের পারফরম্যান্সের সঙ্গে দেশের ফুটবলের তথা বাফুফের ইমেজ জড়িত। মাঠে যখন ভালো হবে তখন দেশের ফুটবলের ইমেজটাও বাড়বে।'
খেলোয়াড়দের দাবি তারা মাঠে লড়াই করেন, আর ডাক পান বেঞ্চে বসে থাকা ফুটবলার। তাদের কথায়- এক দুইটা ক্লাব থেকে খেলোয়াড় জাতীয় দল গঠন করা হয়। যারা জাতীয় ফুটবল দল পরিচালনা করেন তারা দেশের অন্যান্য লিগের খেলা দেখেন না। সিনিয়র ডিভিশন ফুটবল লিগ হয়, চ্যাম্পিয়নশিপ ফুটবল লিগ হয়। কিন্তু জাতীয় ফুটবল দলের কোচিং স্টাফদের চোখ এক-দুইটা ক্লাব কেন্দ্রিক। এতো দিন হয়ে গেল স্প্যানিশ কোচ হ্যাভিয়ের কাবরেরা জাতীয় দলের হেড কোচের দায়িত্ব পালন করছেন, বিভিন্ন স্থানে পেশাদার লিগের খেলাও দেখেছেন। অন্যান্য ক্লাবের খেলোয়াড়রা প্রশ্ন করেন তার হাত দিয়ে কয়জন নতুন ফুটবলার বেরিয়ে এসেছেন। নতুন কয়টা ফুটবলার উপহার দিয়েছেন তিনি? সংখ্যাটা কতো।
কাবরেরার আগে ইংলিশ কোচ জেমিডে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনিও একই ছিলেন। তার সময়ে জাতীয় দলে আবাহনীর ফুটবলারদের আধিক্য ছিল। ন্যাশনাল টিমস কমিটির চেয়ারম্যান এবং ম্যানেজার, দুটোই ছিল আবাহনীর। চাইলেও ওপর মহলের চাপে চেঞ্জ করতে পারেননি কাজী সালাহউদ্দিন। হ্যাভিয়ের কাবরেরা দায়িত্ব পাওয়ারও একই পরিস্থিতি থাকলেও একটা সময় বল গড়িয়ে অন্যদিকে চলে যায়। কিংসের ফুটবলারদের আধিক্য চলে আসে। যারা রেগুলার ফুটবলার তারা ডাক পাচ্ছেন না, আর যারা বেঞ্চের ফুটবলার, ক্লাবের জার্সিতে খেলার সুযোগই পাননি তারা কীভাবে জাতীয় দলে এসে সেরা একাদশে জায়গা পান।
বছর জুড়ে এসব প্রশ্ন ছিল অন্যান্য ক্লাব ফুটবলারদের। তাদের মধ্যে হতাশা, 'এতো কষ্ট করে খেলে কি লাভ। কোচ যদি আমাদের খেলা না দেখেন, সুযোগও না দেন। তাহলে নতুন খেলোয়াড় উঠে আসবে কীভাবে।'
জাতীয় দল গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে নানা কথা ক্লাবে ক্লাবে, ফুটবলের বাজারে কানাঘুষা হয়। বসুন্ধরা কিংসের বেঞ্চের ফুটবলাররা জাতীয় দলে নিয়মিত ডাক পান। বিভিন্ন ক্লাবের জাতীয় দল গঠন প্রক্রিয়ায় যেসব অদৃশ্য দেয়াল তৈরি হয়েছে তা ভাঙতে চান তাবিথ। সময়ের সাথে সাথে দেশের ফুটবলের স্বার্থে প্রয়োজনীয় সবই করতে চান, বাফুফে সভাপতি বার বার বলেছেন, 'জাতীয় দলের পারফরম্যান্সের সঙ্গে দেশের ফুটবলের তথা বাফুফের ইমেজ জড়িত। মাঠে যখন ভালো হবে তখন দেশের ফুটবলের ইমেজটাও বাড়বে।'
