জাজিরায় পদ্মার ভাঙনে বিলীন স্কুল উন্মুক্ত স্থানে চলছে পাঠদান

আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০২৪, ০৫:০০

পদ্মার ভাঙনে স্কুল ভবন বিলীন হওয়ায় এক মাসেরও বেশি সময় ধরে খোলা আকাশের নিচে ক্লাস করতে হচ্ছে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পাইনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের। বর্তমানে নাওডোবা এলাকায় পদ্মা সেতু প্রকল্পের একটি জায়গায় অস্থায়ীভাবে ক্লাস নিচ্ছেন শিক্ষকরা। নদী পার হয়ে এখন বিদ্যালয়ে যেতে হয় বলে কমেছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা। 

পাইনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সূত্র জানায়, ২০১৩ সালে ভাঙনের কবলে পড়লে স্থানীয়রা বিদ্যালয়টি পদ্মা নদীর পাইনপাড়া চরে ৩৩ শতাংশ জমির ওপর পাঁচটি কক্ষ নির্মাণ করে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চালু করা হয়। গত বর্ষায় বিদ্যালয়টি নদী ভাঙনের শিকার হয়। প্রথমে জমি বিলীন হয়। এ বছরের ৫ অক্টোবর বিদ্যালয়টির টিনশেডের ভবন ভাঙনের কবলে পড়লে শিক্ষকরা শিক্ষাকার্যক্রম অন্যত্র সরিয়ে নেন। 

গত বুধবার পদ্মা সেতু প্রকল্পের নাওডোবা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সেতুর জন্য অধিগ্রহণ করা একটি খালি জমিতে ভাঙনের শিকার কিছু পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। সেখানে পাইনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চালু করা হয়েছে একটি মাদ্রাসার রান্না ঘরের বারান্দায় ও খোলা আকাশের নিচে। প্রচণ্ড রোদের মধ্যে বসে শিশুরা পড়ালেখা করছে। পাশে একটি পানির নলকূপ থাকলেও শিশুদের জন্য টয়লেটের কোনো ব্যবস্থা নেই। এছাড়া এখানে আসতে শিক্ষার্থীদের ইঞ্জিনচালিত নৌকায় দেড় কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করতে হয়। সেজন্য প্রাক-প্রাথমিক ও প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে পাঠাচ্ছেন না অভিভাবকরা। 

তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমনা ও মেহেদী হাসান জানায়, তারা সাঁতার জানে, তবে নদী দিয়ে পারাপার হতে ভয় লাগে। ভয় লাগলেও পড়ালেখা করার জন্য প্রতিদিন সকালে পদ্মা পাড়ি দিয়ে নাওডোবায় আসি ও গ্রামে ফিরে যায়। 

পঞ্চম শ্রেণির নিশাতুল রায়হানা ও তৃতীয় শ্রেণির আবু রায়হানের বসত বাড়ি পদ্মায় বিলীন হয়েছে গত সেপ্টেম্বরে। এরপর তাদের চোখের সামনেই বিদ্যালয়টির একই পরিণতি হয়েছে। তারা চায় দ্রুত বিদ্যালয়টি নির্মাণ করা হোক। 

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম মিয়া বলেন, সামনে শিক্ষার্থীদের চূড়ান্ত পরীক্ষা। সেজন্য খোলা আকাশের নিচে শ্রেণির কার্যক্রম চালাচ্ছি। স্কুলটি কোথায় নিয়ে চালু করা হবে, কে আমাদের জমি দিবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। জেলা ও উপজেলা কর্মকর্তাদের বিদ্যালয়ের অবস্থা জানিয়েছি। 

জাজিরা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিয়ামত হোসেন বলেন, আমি শুনেছি, একটি স্কুল নদীভাঙনের শিকার হয়েছে। সেটি দেখতে যেতে পারিনি। স্কুলটির শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ কি না, সেটাও বলতে পারব না। 

জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাবেরি রায় বলেন, দুই সপ্তাহ হলো জাজিরাতে ধরে যোগদান করেছি। কোনো স্কুল নদীতে বিলীন হয়েছে তা কেউ আমাকে জানায়নি। এমনকি উপজেলা শিক্ষাকর্মকর্তাও বিষয়টি আমাকে অবগত করেননি। আমি খোঁজ নিয়ে দেখব।

ইত্তেফাক/এমএএম