১৪৪ ধারার মধ্যেই বাঞ্ছারামপুরে বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত

আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০২৪, ২০:৫৭

নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ এবং প্রশাসনের জারি করা ১৪৪ ধারার মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।  

বুধবার (২০ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের রাধানগর মাদরাসা মাঠে এই সম্মেলন হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক লিয়াকত আলী ফরিদ। সঞ্চালনা করেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ. কে. এম. ভিপি মুসা। সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির কুমিল্লা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূইয়া। যদিও প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর।  

প্রধান অতিথি অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূইয়া বলেন, "দেশে এখন নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বিএনপি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল। আওয়ামী লীগ বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে টিকে থাকতে পারেনি, ভবিষ্যতেও পারবে না।" তিনি আরও বলেন, "বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে দেশে শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। তাই ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা উচিত।"  

প্রশাসনের ১৪৪ ধারা জারির কারণে পূর্বনির্ধারিত স্থান, বাঞ্ছারামপুর উপজেলা সদরের এস. এম. মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সম্মেলন করা সম্ভব হয়নি। পরে সম্মেলন স্থানান্তর করা হয় উজানচর ইউনিয়নের রাধানগর মাদরাসা মাঠে।  
 
সম্মেলনকে কেন্দ্র করে গত সোমবার বিবাদমান দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে কমপক্ষে ৫০ জন আহত হন। সংঘর্ষের সময় ৫টি মোটরসাইকেলে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি প্রায় ৩০টি দোকানপাটও ভাঙচুর করা হয়। আহতদের মধ্যে ৬ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়।  

এদিকে, সম্মেলনের বিরোধিতা করে সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুল খালেকের অনুসারীরা একই মাঠে "জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস" পালন করার ঘোষণা দেয়। উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায় মঙ্গলবার রাতে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে।  

সম্মেলনের শেষাংশে কেন্দ্রীয় কৃষকদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশকে সভাপতি এবং বর্তমান সদস্য সচিব এ. কে. এম. মুসাকে সাধারণ সম্পাদক করে উপজেলা বিএনপির নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। 

ইত্তেফাক/টিএইচ