সংবাদপত্রের আলোচিত খবর

নতুন করে খেলাপির ঝুঁকিতে ব্যবসায়ীরা

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০২৪, ১১:০৫

প্রতিদিন জাতীয় দৈনিকে অসংখ্য খবর প্রকাশিত হয়। সেইসব খবর থেকে আলোচিত কিছু খবরের সংকলন করা হলো।

ইত্তেফাক

এসডিজি কার্যক্রমে যুক্ত হচ্ছে ড. ইউনূসের ‘থ্রি জিরো’ তত্ত্ব 

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জনে সরকার-গৃহীত কার্যক্রমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের টেকসই উন্নয়নের ‘থ্রি-জিরো’ তত্ত্ব যুক্ত করার চিন্তা করছে সরকার। সরকারি ও  বেসরকারি উভয় পর্যায়ে এই তত্ত্বের কার্যকর প্রয়োগের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়নের অভিষ্ট লক্ষ্য অর্জন করা সহজ হবে বলে মনে করছেন সরকারের নীতিনির্ধারকরা।

‘থ্রি-জিরো’ তত্ত্ব আর্থিক স্বাধীনতা, কর্মঠ জনশক্তি তৈরি এবং পরিবেশ উন্নয়নে বর্তমান পৃথিবীতে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও কার্যকর একটি মডেল। এটি একটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি, যা তিনটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য অর্জনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। সেগুলো হচ্ছে—জিরো দারিদ্র্য, জিরো বেকারত্ব ও জিরো নেট কার্বন নিঃসারণ। আর তা অর্জনে প্রয়োজন তারুণ্য, প্রযুক্তি, সুশাসন ও সামাজিক ব্যবসা।

গ্রামীণ ব্যাংক ও ক্ষুদ্রঋণ ধারণার প্রবর্তক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিশ্ব জুড়ে আলাদা সম্মান পেয়েছেন তার এই থ্রি-জিরো তত্ত্বের জন্য। এসডিজির লক্ষ্যসমূহের মূল পরিকল্পনায় রয়েছে—সকলের জন্য কল্যাণকর পৃথিবী এবং টেকসই ভবিষ্যত্ নির্মাণ।

‘থ্রি জিরো’ তত্ত্বের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এসডিজি-বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া  মোরশেদ বাসসকে বলেন, ‘আমরা এসডিজির সঙ্গে থ্রি জিরো তত্ত্ব যুক্ত করার চেষ্টা করছি। এসডিজির ওপর সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে আমাদের একটি কর্মশালা চলছে, সেখানে এই তত্ত্বের বিষয়ে আলোচনা করছি। আমরা চাই টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে সব পর্যায়ে থ্রি জিরো তত্ত্বের ব্যাপারে সচেতনতা তৈরি  হোক।’

প্রথম আলো

শুল্ক কমালেও আমদানি বাড়েনি, দামও চড়া

নিত্যপণ্যের দাম কমাতে সরকার আমদানি বাড়ানোর শুল্ক–কর কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু গত এক মাসে আমদানি তেমন একটা বাড়েনি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্যমতে, সরকার শুল্ক–কর তুলে নিয়ে প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানির অনুমতি দিয়েছে। আমদানি হয়েছে মাত্র ১৫ হাজার টন চাল।

চাল আমদানি কম হওয়ার কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, দুই বছরে ডলারের দাম বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ। ফলে শুল্ক কমিয়েও চাল আমদানি লাভজনক হচ্ছে না। ব্যবসায়ীদের দাবি, আমদানির অনুমতি দেওয়া ও শুল্ক–কর কমানোর একটি সুফল হলো, বাজার স্থিতিশীল হয়েছে। দু–একটি পণ্যের দাম কিছুটা কমেছে আবার কিছু বেড়েছেও।

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে, এক মাসে ঢাকার বাজারে মোটা চালের সর্বনিম্ন দাম প্রতি কেজি দুই টাকা কমেছে। অন্যদিকে মাঝারি ও সরু চালের দাম প্রতি কেজি তিন থেকে চার টাকা বেড়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার নিত্যপণ্যের দাম কমাতে চাল, ডিম, সয়াবিন তেল, পাম তেল, চিনি, পেঁয়াজ, আলু ও খেজুরের শুল্ক–কর কমিয়েছে।

ডেইলি স্টার

‘Polls only after vital electoral reforms’ 
অর্থাৎ ‘গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী সংস্কারের পরই ভোট’

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাছির উদ্দীন বলেছেন, নতুন নির্বাচন কমিশন আরেকটি একতরফা নির্বাচন চায় না। তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রয়োজনীয় সংস্কারের পর আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’ তিনি বলেন, ‘অতীতের একতরফা নির্বাচন দেশের ক্ষতি করেছে।’

কার্যালয়ে প্রথম দিন দায়িত্ব পালন শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনের জন্য আমরা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করব।’ ২০২৪ সালের নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘যেখানে আওয়ামী লীগের অনেক নেতা নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক দেখানোর জন্য স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।’

আজকের পত্রিকা

ইউরোপের বাজারে কমছে তৈরি পোশাক রপ্তানি

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক রপ্তানি নেতিবাচক ধারাতেই আছে। চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ থেকে ইউরোপে পোশাক রপ্তানি কমেছে দুই দশমিক শূন্য ছয় শতাংশ।

ডলারের মূল্যবৃদ্ধিতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া, রাজনৈতিক অস্থিরতায় বাড়তি লিড টাইম, গ্যাস-বিদ্যুতের ঘাটতি, দুর্বল ব্যাংকিং ব্যবস্থা, বিশ্বব্যাপী উচ্চ মূল্যস্ফীতিসহ বেশ কিছু কারণ রপ্তানিতে পিছিয়ে পড়ার জন্য দায়ী বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

তবে সর্বশেষ গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি কিছুটা বেড়েছে, এতে রপ্তানির প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক ধারা থেকে ইতিবাচক ধারায় ফিরতে শুরু করেছে। দেশের সার্বিক অবস্থা ভালো করতে পারলে আগামী দু-তিন মাসে রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইউরোপের বাজারে তৈরি পোশাকের বড় রপ্তানিকারক ১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ একমাত্র ইন্দোনেশিয়া ও তুরস্কের চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে। বাকি সাত দেশের তুলনায় প্রবৃদ্ধিতে পিছিয়ে বাংলাদেশ। অথচ বাংলাদেশ ইউরোপের বাজারে দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক সরবরাহকারী দেশ।

যুগান্তর

নির্বাচন ইস্যুতে সরকারের ওপর চাপ বাড়ছে

দ্রুত নির্বাচনের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর চাপ বাড়ছে। সরকারের প্রধান কাজ হচ্ছে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের আয়োজন-রাজনৈতিক দলগুলো থেকে ক্রমে এই বক্তব্য জোরদার হচ্ছে। দেশের বড় রাজনৈতিক দল বিএনপি শুরুতে সরকারকে যৌক্তিক সময় দেওয়ার কথা বললেও এখন দ্রুত নির্বাচনি রোডম্যাপ চাইছে। সমমনা দলগুলোও একই দাবি জানাচ্ছে।

জামায়াতে ইসলামী সংস্কারে গুরুত্ব দিলেও বিলম্বিত নির্বাচন চায় না। পতিত স্বৈরাচার সরকারের সুবিধাভোগীদের অপতৎপরতা, নানামুখী সংকট, প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো দাবি নিয়ে রাজপথে আন্দোলনসংক্রান্ত পরিস্থিতি দলগুলোর মধ্যে দ্রুত নির্বাচনের তাগিদ বাড়িয়েছে-এমনটি মনে করছেন রাজনৈতিক দলের নেতারা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দু-একটি ঘটনায় বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর অবস্থানের বদল হয়েছে। যতই সরকারের জনপ্রিয়তা কমতে থাকবে, ততই সরকারের ওপর নির্বাচনি চাপ বাড়বে-এটাই স্বাভাবিক। সরকার এখন পর্যন্ত কোনো নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করছে না। কোনো সম্ভাব্য তারিখ দিচ্ছে না। এটা বিএনপির জন্য একটু হলেও অস্বস্তির কারণ হয়ে গিয়েছে। বিএনপিসহ সমমনা দলগুলো জানতে চায় নির্বাচনটা কবে দেবে, সেটা এক বছর হোক, দেড় বছর হোক কিছু একটা তো বলবে। কিন্তু সরকার সে সম্পর্কে কোনো কথাই বলছে না।

এখানে ফাঁক রেখে বিএনপি ও অন্য রাজনৈতিক দলের এ রকম মনে হতে পারে যে সরকার হয়তো যতদিন বেশি থাকা যায় ততদিনই থাকতে চায়। এই ধারণাটা দূর করার দায়িত্ব সরকারের। যেহেতু সরকার এটা করছে না, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে চাপ বাড়ছে। তবে সরকারকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহতও রেখেই নির্বাচনের দাবিতে সামনে রাজপথে জোরালো ভূমিকা দেখা যেতে পারে বিএনপিসহ মিত্রদের-এমন ধারণা বিশ্লেষকদের।

যদিও সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সরকার কোনো দলের কাছে নয়, জনগণের আকাঙ্ক্ষার কাছে দায়বদ্ধ। তাই বিএনপি দ্রুত নির্বাচনের জন্য যতই চাপ দিক, সংস্কার কমিশনের কাজের ওপর ভিত্তি করেই নির্বাচনের দিকে এগোবে সরকার।

মানবজমিন

‘অরাজকতা’

ঢাকাজুড়ে রোববার অটোরিকশা চালকদের বিক্ষোভ কর্মসূচি, ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় ভুল চিকিৎসা ও অনিয়মের অভিযোগে হাসপাতালের প্রধান ফটক আটকে শিক্ষার্থীদের ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। সেইসাথে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরান ঢাকার কবি নজরুল সরকারি কলেজ ও সোহরাওয়ার্দী কলেজে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

ভাঙচুর ও হামলার কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজের স্নাতক পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা পুরো পরীক্ষা শেষ করতে পারেননি। দুই কলেজের সংঘর্ষে অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। এদিকে ঢাকার কারওয়ান বাজারে দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান ও বিক্ষোভ করেছেন একদল লোক।

রোববার বেলা সাড়ে ১২টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত ছয় ঘণ্টা অবস্থান নিয়ে কর্মসূচি পালন করেছেন ‘বাংলাদেশের জনতা’ ব্যানারে কিছু মানুষ। দিনভর এমন নানা বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘটনায় রোববার ঢাকাজুড়ে এক অরাজক পরিস্থিতি তৈরি হয়। এদিকে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করায় অনেক এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।

সমকাল

সংসদ নির্বাচনের সঙ্গেই গণভোটের প্রস্তাব

বর্তমান সংবিধানে গণভোটের বিধান না থাকলেও সংবিধান সংশোধনের বৈধতা দিতে নতুন প্রস্তাবে তা যুক্ত করা হয়েছে। অধ্যাপক আলী রিয়াজের নেতৃত্বাধীন সংবিধান সংস্কার কমিশনের ওই প্রস্তাবে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে আলাদা 'হ্যাঁ-না' ব্যালটে গণভোট আয়োজনের কথা বলা হয়েছে।

এ ছাড়া অংশীজনের প্রস্তাবে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য আনা, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠন, নির্বাচনকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) হাতে নির্বাহী ক্ষমতা দেওয়া, সংসদের ভোটে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বসহ সংবিধানের মৌলিক কাঠামো সংস্কারের প্রস্তাব এসেছে।

সরকার পতনের পর থেকেই রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কারের জোর দাবি ওঠে। ইতোমধ্যে অভ্যূত্থানে অংশ নেওয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠনগুলো নানা প্রস্তাব তুলে ধরেছে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করে আসছে সংস্কার কমিশন। সেখানে বিভিন্ন অনুচ্ছেদের পরিবর্তন এবং পরিমার্জনের প্রস্তাবের সঙ্গে সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়েও বিভিন্ন মতামত নেয়া হচ্ছে।

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সরাসরি কমিশন বৈঠকে না বসলেও তাদের কাছ থেকে লিখিত প্রস্তাব আহবান করা হয়েছে। এর মধ্যে সংবিধানে গণভোটের পদ্ধতি ফিরিয়ে আনার প্রস্তাবও রয়েছে।

কালের কণ্ঠ

নতুন করে খেলাপির ঝুঁকিতে ব্যবসায়ীরা

শিল্পোৎপাদন কমে গেছে। ব্যাহত হয়েছে রপ্তানি আয়। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাসহ নানামুখী চাপে ব্যবসা-বাণিজ্যে নেমে এসেছে স্থবিরতা। এর মধ্যে খেলপি ঋণের নীতিমালা পরিবর্তনের ফলে ঋণ পরিশোধের সময় কমে এসেছে।

এই অবস্থা নতুন করে ঋণখেলাপি হওয়াসহ নানামুখী চাপের মুখে ব্যবসায়ী সমাজ। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের ব্যাংক খাতে ব্যাপক লুটপাটে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছে। লুটপাটের টাকার বড় অংশ বিদেশে পাচার করা হয়েছে। ওই সব টাকা এত দিন খেলাপি করা হয়নি। এখন সেগুলো খেলাপি হচ্ছে। আগে খেলাপি ঋণের প্রকৃত তথ্য আড়াল করে কমিয়ে দেখানো হতো। এখন সব তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে। এতে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে খেলাপি ঋণ।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের শর্ত পূরণে আগামী মার্চের মধ্যে সব ধরনের ঋণ শ্রেণীকরণ নীতিমালা কঠোর করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে দেশের খেলাপি ঋণের পরিমাণ পাঁচ লাখ কোটি টাকা ছাড়াতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

বণিক বার্তা

আদানিসহ ৭ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চুক্তির বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে পর্যালোচনা কমিটি

শেখ হাসিনার শাসনামলে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত স্বাক্ষরিত বড় বিদ্যুৎ উৎপাদন চুক্তি পর্যালোচনায় সহায়তার জন্য একটি লিগ্যাল ও তদন্তকারী সংস্থাকে দায়িত্ব দেয়ার সুপারিশ করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত জাতীয় পর্যালোচনা কমিটি। বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন পর্যালোচনা কমিটির এক প্রস্তাবে গতকাল অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে এ সুপারিশ করা হয়। সেই সঙ্গে আরো জানানো হয়েছে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের অন্য চুক্তিগুলো বিশ্লেষণ করতে কমিটির আরো সময় প্রয়োজন।

পর্যালোচনা কমিটি এমন সব তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করছে, যা আন্তর্জাতিক সালিশি আইন ও কার্যধারার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চুক্তি পুনর্বিবেচনা বা বাতিল করতে পারে। এক্ষেত্রে তাদেরকে সহায়তায় শীর্ষমানের এক বা একাধিক আন্তর্জাতিক আইন এবং তদন্তকারী সংস্থাকে অবিলম্বে যুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে। কমিটি অন্তর্বর্তী সরকারকে আরো জানিয়েছে, তারা নিশ্চিত করতে চায় যে তদন্তগুলো আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিতের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আলোচনা ও সালিশে গ্রহণযোগ্য হবে।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত জাতীয় পর্যালোচনা কমিটি এরই মধ্যে বেশকিছু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চুক্তির বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করে দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভারতের গড্ডায় নির্মিত আদানি গ্রুপের ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, পটুয়াখালীর পায়রায় নির্মিত ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, নারায়ণগঞ্জের মেঘনাঘাট ৩৩৫ মেগাওয়াট ডুয়াল ফুয়েল বিদ্যুৎ কেন্দ্র, আশুগঞ্জে ১৯৫ মেগাওয়াট গ্যাস বিদ্যুৎ কেন্দ্র, চট্টগ্রামের বাঁশখালী ৬১২ (প্রথম ইউনিট) মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, মেঘনাঘাটে সামিট গ্রুপের ৫৮৩ মেগাওয়াট ডুয়াল ফুয়েল বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং মেঘনাঘাট ইউনিক গ্রুপের ৫৮৪ মেগাওয়াট গ্যাসভিত্তিক (এলএনজি) বিদ্যুৎ কেন্দ্র।

বাংলাদেশ প্রতিদিন

নতুন ছকে জোট রাজনীতি

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা না হলেও এরই মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলো এবারও জোটবদ্ধ রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে উঠছে। দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি বলছে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতন আন্দোলনে যেসব দল তাদের সঙ্গে রাজপথে ছিল তাদের নিয়েই আগামীতে ভোট করবে তারা।

বিএনপির একসময়ের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনকে ঘিরে দেশের প্রধান প্রধান ইসলামী দলগুলো নিয়ে জোট গঠনের তৎপরতা শুরু করেছে। সেইসাথে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জামায়াতে ইসলামীর বাইরে যেসব ইসলামী দল রয়েছে তাদের নিয়ে মোর্চা করার চিন্তা করছে। থেমে নেই বাম দলগুলোও। তারা এক ছাতার নিচে আসার চেষ্টায় তৎপর রয়েছে। সব মিলিয়ে নির্বাচন ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন ছকে জোট রাজনীতি।

দেশ রূপান্তর

জানুয়ারিতে ছাত্রদের নতুন দল

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অভ্যুত্থান সফল হওয়ার পর এবার নিজেরাই নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার দায়িত্বে থাকা নাহিদ ইসলামকে নেতৃত্বে রেখে দল গঠনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

বাইরের বিভিন্ন দলের নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠন হতে পারে এই দল। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনাও চলছে বলে জানা গেছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বছরের শুরুতে অর্থাৎ জানুয়ারিতেই আলোচিত নতুন রাজনৈতিক দলের ঘোষণা আসতে পারে।

দলের নাম এখনো চূড়ান্ত না হলেও তারুণ্যনির্ভরই হচ্ছে দলটি। এর আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা বিভিন্ন জেলা সফর করেছেন। ওই সময় নতুন দল গঠনের বিষয়টি আলোচনায় আসে। এরপর কোটা সংস্কার আন্দোলন পরিচালনার জন্য গঠিত এই প্ল্যাটফর্মকে সাংগঠনিক রূপ দিতে গঠন করা হয় আহ্বায়ক কমিটি। একই সঙ্গে গঠন করা হয় জাতীয় নাগরিক কমিটি।

ইত্তেফাক/এএম