শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ না করেই ইতিহাস বিভাগে ক্লাস শুরু

আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০২৪, ০২:৩০

ময়মনসিংহের ত্রিশালে বিশেষায়িত জাতীয় কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ না হলেও ৪ নভেম্বর থেকে ইতিহাস বিভাগের ক্লাস শুরু করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। নিয়ম বহির্ভূতভাবে অন্য বিভাগ ও অন্য কলেজের শিক্ষক দিয়ে এই বিভাগের শিক্ষার্থীদের ক্লাস পরিচালনা করা হচ্ছে। এ বিভাগের শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন।

জানা গেছে, দর্শন বিভাগের একটি কক্ষে ক্লাস করছেন ইতিহাস বিভাগের ৩০ জন শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মো. হাবিবুল উল মাওলা, ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ সহকারী অধ্যাপক এ কে এম মাসুদুল মান্নান এবং বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক রমজান আলী আকন্দকে বিভাগটির ৩০ জন শিক্ষার্থীকে পাঠদানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্বে আছেন উপাচার্য অধ্যাপক মো. জাহাঙ্গীর আলম।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস বিভাগ চালুর অনুমোদন দেয় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। একই দিন বিভাগে জনবল কাঠামোর নিয়োগেরও অনুমোদন দেওয়া হয়। চার জন শিক্ষক ও দুই জন কর্মচারী নিয়োগের জন্য প্রথম নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় চলতি বছরের ৪ এপ্রিল। ১৫ মে আবেদনের শেষ সময় ছিল। কিন্তু নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে যেতে পারেননি সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক সৌমিত্র শেখর। সরকার পতন হলে সৌমিত্র শেখর আত্মগোপনে থেকে পদত্যাগ করেন। বিতর্ক এড়াতে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ২৩ অক্টোবর পুনরায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। শুধু ইতিহাস বিভাগের চার জন শিক্ষক, দুই জন কর্মচারী নয়, বিভিন্ন বিভাগ মিলে ৩৩ জন্য শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে এ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ১৭ নভেম্বর ছিল আবেদন জমার শেষ দিন।

ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী জুনাঈদ হোসেনসহ কয়েক জন শিক্ষার্থী বলেন, ‘আলাদা বিভাগ ও শিক্ষক না থাকায় আমরা অন্য বিভাগে ক্লাস করি। রুম খালি থাকলে ক্লাস করতে হয়। শিক্ষকদের নিজস্ব বিভাগে ক্লাস থাকলে সমস্যা হয়। ইতিমধ্যে আমাদের নজরুল স্টাডিজ, ইংলিশ স্কিল, ইন্ট্রুডাকশন অব হিস্ট্রি ও হিস্ট্রি অব বেঙ্গল—এই চারটি কোর্স চালু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই জন শিক্ষকের পাশাপাশি বাইরের একজন শিক্ষক ক্লাস নিচ্ছেন। আমরা যেন সেশনজটে না পড়ি, সে কারণে উপাচার্য জানিয়েছেন, দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ দেবেন। শিক্ষক না থাকায় আমরা খেলাধুলায়ও অংশগ্রহণ করতে পারছি না।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, জনবল নিয়োগ সম্পন্ন করে শিক্ষার্থী ভর্তি করা ভালো। তবে জনবল নিয়োগ সম্পন্ন না করে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রমেরও সুযোগ আছে। অতীতে আমাদের এই বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক বিভাগে এভাবে ক্লাস বা শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেছিল, বর্তমান প্রশাসন ইতিমধ্যেই শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। আশা করি, ঐ বিভাগের শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হবে।

শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ সম্পন্ন না করে শিক্ষার্থী ভর্তি করা উচিত নয় জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মো. মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ না দিয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করায় আমরা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছি। ইতিহাসের শিক্ষার্থী কম থাকায় দর্শন বিভাগের একটি কক্ষে সাময়িকভাবে ক্লাস শুরু করা হয়েছে। আমরা চেষ্টা করব পরবর্তী সময়ে কোনো বিভাগ চালু করলে আগেই শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে।

ইত্তেফাক/এমএএম